দুই বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ল্যাব ছেড়ে চলে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে করোনা পরীক্ষা। গত ১৭ ডিসেম্বর থেকে এখানে আর করোনা পরীক্ষা করানো হয় না। এখন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ল্যাবে করোনা পরীক্ষা করা হচ্ছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, নতুন করে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা দেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছে। যোগ্য লোক পেলে ল্যাব আবারও চালু হবে, না-পাওয়া পর্যন্ত আর চালু হবে না।
হাসপাতালের আরটি-পিসিআর ল্যাবে সম্প্রতি করোনার নমুনা পরীক্ষার কিট নয়ছয়ের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি তদন্তে গঠিত কমিটি কিট গায়েবের অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলেও দুই বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাকে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়ার সুপারিশ করে। এরপরও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের সরায়নি। তার আগে দুই বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা নিজেরাই সরে গেছেন। এ দুই কর্মকর্তা হলেন, এসএম হাসান এ লতিফ ও হামিদ আহমেদ। তারা রাজশাহীর বিভাগীয় ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাব চালু করার জন্য গত বছরের মার্চে তাদের ডিএনএ ল্যাব থেকে আনা হয়। গত ২২ মাস তারা অতিরিক্ত সম্মানী ছাড়াই ল্যাবে কাজ করছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ল্যাবের টেকনোলজিস্টরা সম্প্রতি এই দুই বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্ধেক কিট ব্যবহার করে করোনা পরীক্ষার পর বাকি অর্ধেক সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ করেন। কিন্তু কাগজপত্রে ৪৯ হাজার ৪০০ কিটের মধ্যে প্রায় সবই ব্যবহার করার প্রমাণ রাখা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, অন্তত ২ হাজার কিট গায়েব করে দেওয়া হয়েছে। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ নভেম্বর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। এই কমিটি কিট গায়েবের অভিযোগের প্রমাণ পায়নি। তবে শুধু অভিযোগকারীদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে দুই কর্মকর্তাকে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়ার সুপারিশ করে। গত ২১ নভেম্বর হাসপাতাল পরিচালকের কাছে এ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।
এই প্রতিবেদন জমা হওয়ার পর বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এসএম হাসান এ লতিফ জানিয়েছিলেন, তারা বিভাগীয় ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবের কর্মী। করোনা পরীক্ষার কোনো ল্যাব রাজশাহীতে ছিল না। সেই সময় তাদের অনুরোধ করে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেই সময়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের অন্যত্র না সরালেও গত ১১ নভেম্বর দুই বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানীর কাছে অব্যাহতি চেয়ে চিঠি দেন। এরপর হাসপাতাল পরিচালক গত ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাদের অনুরোধ করেই ল্যাবে কাজ করান। ১৭ ডিসেম্বর থেকে তারা আর ল্যাবে কাজ করেননি। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেন, ‘ওনাদের নিজেদের ডিএনএ ল্যাবেই নাকি এখন কাজ বেড়ে গেছে। তাই অব্যাহতি নিয়েছেন। তাও আমি অনুরোধ করে কয়েক দিন কাজ করিয়েছি। এখন তারা না থাকার কারণে ল্যাব বন্ধ।’