ইসি পনুর্গঠনের সংলাপে অংশ না নেয়ার পক্ষে বিএনপি নেতারা

নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপকে নাটক ও তামাশা বলে অভিহিত করেছেন বিএনপি নেতারা। 

তারা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে কোনো ইসি সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারবে না। সার্চ কমিটি গঠনে রাষ্ট্রপতির সংলাপে অংশ নেবে না দলটি। 

সোমবার গুলিস্তানে কাজী বশির মিলনায়তনে (মহানগর নাট্যমঞ্চে) মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় দলের শীর্ষ স্থানীয় নেতারা এ কথা বলেন। 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘৫ বছর পর পর দেশে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংযোজন করেছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আওয়ামী লীগ সরকার গায়ের জোরে তা বাতিল করে ক্ষমতায় আছে। এখন আগামী নির্বাচন করতে নাটক শুরু করেছে। নাটকের প্রথম মঞ্চায়ন হয়েছে আজ (সোমবার) বঙ্গভবনে।’

তিনি বলেন, ‘তারা (রাষ্ট্রপতি) ইসি গঠন করার জন্য সার্চ কমিটি করার আলোচনা শুরু করেছে। এগুলো তামাশা। গত তিনটি নির্বাচনে আমরা দেখেছি ইসি রাবার স্ট্যাম্পের ভূমিকা পালন করেছে। শেখ হাসিনার সরকার যতদিন আছে কোনো নির্বাচন কমিশন এ দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারবেন না। এগুলো নাটক, এগুলো তামাশা। এখানে মূল সঙ্কট বর্তমান স্বৈরাচার সরকার। এ সরকারকে হটিয়ে নির্দলীয় সরকার গঠন করতে হবে, তখন নির্বাচন কমিশন গঠন হলে পরিবেশ সৃষ্টি হবে। তার আগে এসব নাটক করে লাভ হবে না।’ 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রেখে যাকেই ইসি করা হোক, সেই কমিশনের অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না-এটা প্রমাণিত। রাষ্ট্রপতির এ সংলাপ একটি তামাশা। এ ধরনের সংলাপে অংশ নেয়ার প্রশ্নই আসে না।’ 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ বলেছেন, ‘সার্চ কমিটি গঠনের মাধ্যমে ইসি গঠনে রাষ্ট্রপতির যে ড্রামা চলছে, এই প্রতারণার সঙ্গে যারা থাকবে তারা বাংলাদেশের শত্রু, গণতন্ত্রের শত্রু এবং বাংলাদেশের জনগণের শত্রু।’
সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সভা পরিচালনা করেন প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ও সহ প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম আলিম। 

বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, বিএনপি নেতা আবদুস সালাম, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, খায়রুল কবির খোকন, আবদুস সালাম আজাদ, রফিকুল আলম মজনু, আমিনুল হক, যুবদলের সাইফুল আলম নিরব, স্বেচ্ছাসেবক দলের মোস্তাফিজুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাদেক আহমেদ খান, কৃষক দলের হাসান শহিদুল ইসলাম বাবুল, মৎস্যজীবী দলের রফিকুল ইসলাম মাহতাব প্রমুখ ।