দেশের উত্তরাঞ্চল, দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলসহ বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে শুরু হওয়া মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ আরও দু-তিন থাকবে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
সোমবার অধিদপ্তর জানায়, দেশের অন্তত ১০টি জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। জেলাগুলো হলো- গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম, নঁওগা, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, বরিশাল ও যশোর।
এর মধ্যে তাপমাত্রার সবচেয়ে কম চুয়াডাঙ্গায় ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা এ বছরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এ ছাড়া যশোরের তাপমাত্রা ৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমেছিল। রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের বেশির ভাগ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ ও এর কাছাকাছি তাপমাত্রা বয়ে যাচ্ছে। রাজধানীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৪ দশমিক ২ ডিগ্রি এবং সর্বোচ্চ ২৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, মঙ্গলবারও দেশের বেশির ভাগ এলাকার তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। শৈত্যপ্রবাহ আরও নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে।
সোমবার ভোরে রাজধানীতে শীতের অনুভূতি হঠাৎ বেড়ে যায়। তবে বেলা গড়াতে রোদ বেড়ে শীতের অনুভূতি কমে আসে। সন্ধ্যা থেকে আবারও হিম হিম শীতের বাতাস বাড়তে থাকে। সন্ধ্যার পর তাপমাত্রা আবারও কমে আসে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ বলেন, অনুকূল পরিস্থিতির কারণে সুদূর সাইবেরিয়া থেকে আসা শীতল বাতাসের প্রবাহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ছে। এ কারণে উত্তরাঞ্চল এবং দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত শীতের তীব্রতা একই রকমের থাকতে পারে। এরপর তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করবে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণ বলছে, কাল দেশের দক্ষিণাঞ্চলের রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। তবে দেশের অন্যান্য স্থানে দিন ও রাতের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে। ভোরের দিকে দেশের বিভিন্ন স্থানে হালকা কুয়াশা পড়তে পারে।
দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি এখন সুস্পষ্ট লঘুচাপ আকারে দক্ষিণ আন্দামান সাগরে অবস্থান করছে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাসে বলা হয়, ডিসেম্বরের শেষার্ধে দেশের উত্তর, উত্তর পূর্বাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে একটি বা দুটি মৃদু কিংবা মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।