বাড়ি থেকে বড় ছেলের স্কুলের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর আগেই গাড়ির সামনের সিটে বসে সন্তানের জন্ম দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়ার এক নারী। গাড়িটি সেই সময়ে চালক ছাড়াই চলছিল। গাড়িটি ছিল টেসলার বৈদ্যুতিক গাড়ি, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই চলতে পারে। শিশুটিকে বলা হচ্ছে প্রথম টেসলা বেবি।
গত ৯ সেপ্টেম্বর ভূমিষ্ঠ হয় এই টেসলা বেবি। এখন তার বয়স সাড়ে তিনমাস। জানা গিয়েছে, প্রসব যন্ত্রনা বাড়তে থাকায় মহিলার স্বামী তাদের গাড়িটিকে অটোপাইলট মুডে দিয়ে দেন। তারপরে স্ত্রীকে প্রসবে সাহায্য করেন।
গাড়িতে সন্তান জন্মদানের ঘটনা এটাই প্রথম নয়, কিন্তু ফিলাডেলফিয়ার এই নারীর সন্তান জন্ম দেওয়ার সময় গাড়িটি ছিল অটোপাইলটে। অর্থাৎ ওই মুহূর্তে গাড়িটি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই চলছিল।
শিশুটির মায়ের নাম ইয়ান শেরি এবং বাবা কেটিং শেরি। দম্পতি জানান, ৯ সেপ্টেম্বর বড় ছেলেকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য রওনা দিয়েছিলেন দম্পতি। রাস্তায় জ্যামে আটকে পড়েন। সেই সময়েই আচমকাই ইয়ানের গর্ভের পানি ভাঙতে শুরু করে। তারা হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা দেন ঠিকই কিন্তু বুঝতে পেরেছিলেন হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়ে যেতে পারে। কারণ রাস্তায় খুবই ট্রাফিক জ্যাম ছিল।
ফলে স্বাভাবিকভাবেই ঠিক সময়ে হাসপাতালে পৌঁছাতে পারেননি। সেই সময়ে পরিস্থিতি বুঝে কিটিং টেসলা গাড়িকে সেলফ ড্রাইভিং মুডে দিয়ে দেন নেভিগেশন সেট করে। যেন তিনি স্ত্রীকে সহযোগিতা করতে পারেন। হাসপাতালের পথে টেসলা গাড়িটি নিজে থেকেই চলতে থাকে। যখন তারা হাসপাতালের কাছাকাছি পৌঁছে যান, ইয়ান আনন্দে চিৎকার করে ওঠেন। ততক্ষণে অবশ্য পৃথিবীর আলো দেখে ফেলেছে টেসলা বেবি। ভাগ্যক্রমে একজন শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ সে সময়ে হাসপাতালের বাইরেই ছিলেন। তিনি গাড়ির মধ্যেই সদ্যজাতের নাড়ি কেটে দেন।
পরবর্তী সময়ে নার্সরা শিশুটির নাম দেন ‘টেসলা বেবি’, যদিও কিটিং ও ইয়ান মেয়ের নাম রেখেছেন ম্যাইভ লিলি। দম্পতি জানিয়েছেন, এই গাড়িটি তাঁরা মেয়েকে দিয়ে যাবেন। এছাড়া তারা মেয়ের ডাক নাম টেস রাখার চিন্তা করছেন।