জাবির সাংবাদিকতা বিভাগের ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন

আনন্দ শোভাযাত্রা, কেক কাটা, আজীবন সম্মাননা প্রদান ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের দশম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন করা হয়েছে।

২০১১ সালের ২১ ডিসেম্বর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের যাত্রা। দশ বছর পেরিয়ে ১১তম বছরে পদার্পণ করল বিভাগটি।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বেলুন উড়িয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপনের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক নূরুল আলম। পরে সেখান থেকে একটি আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি সড়ক ঘুরে নতুন কলাভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

শোভাযাত্রায় বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক শেখ মো. মনজুরুল হক, কলা ও মানবিকী অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোজাম্মেল হক এবং ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান।

শোভাযাত্রা শেষে বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনের সেমিনার কক্ষে বিভাগের প্রাক্তন সভাপতিদের সম্মাননা দেয়া হয়।

এ সময় বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক রাশেদা আখতার, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের প্রাক্তন সভাপতি অধ্যাপক অসিত বরণ পাল, অধ্যাপক মাশরুর শাহিদ হাসান, সহযোগী অধ্যাপক আমিনা ইসলাম এবং সহকারী অধ্যাপক উজ্জ্বল কুমার মণ্ডল।

বিভাগের শিক্ষক সালমা সাবিহার সঞ্চালনায় আয়োজিত এ সম্মাননা অনুষ্ঠানের সমাপনী ঘোষণা করেন বিভাগটির সভাপতি শেখ আদনান ফাহাদ।

পরে একই স্থানে স্বনামধন্য সাংবাদিক আবেদ খানকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়। এরপর সেখানে ‘গণমাধ্যমে জনস্বার্থ: কালের পরিক্রমা’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বলেন, ‘ইতিবাচক সংবাদ মানুষকে সজীব করে আর নেতিবাচক সংবাদ নিস্তেজ করে দেয়। সাংবাদিকতার রয়েছে চরম শক্তি। যুগ যুগ ধরে তাই মানুষ বলে এসেছে, অসির চেয়ে মসি বড়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীরা প্রথম দুবছর গণরুমে জীবন কাটায়। অনেক ছেলেরা তৃতীয় বর্ষে এসেও এভাবে কষ্ট করে থাকে। যে কারণে মেধাবী এই ছাত্ররা প্রথমে এসে রেজাল্টও খারাপ করে। অচিরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের এ সংকট কেটে যাবে। সরকারের সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে।’

মুখ্য আলোচকের বক্তব্যে আবেদ খান বলেন, ‘সংবাদ একটি পচনশীল পণ্য। আর এই পচনশীল পণ্য নিয়ে কাজ করতে হয় সাংবাদিকদের। সাংবাদিকতার প্রতিযোগিতায় ভালো এবং মন্দ উভয় দিকই রয়েছে। যে সাংবাদিকতায় যাচাই-বাছাই থাকে না, সেটা সাংবাদিকতা না। দায়িত্বশীল সাংবাদিকের কাজ নিজের অবস্থানকে শক্তিশালীভাবে ধরে রাখা। সততা এবং স্বচ্ছতার কারণেই সাংবাদিকতা পুরো পৃথিবীতে টিকে আছে। সাংবাদিকতা আমাকে বিশাল পৃথিবীর সন্ধান দিয়েছে।’

বিভাগের সভাপতি শেখ আদনান ফাহাদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক মফিজুর রহমান এবং সাংবাদিক শাহনাজ মুন্নী। আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন বিভাগটির সহযোগী অধ্যাপক আমিনা ইসলাম।