কাবুলে জাতিসংঘের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত

তালেবান সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজউদ্দিন হাক্কানি এখনো জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় রয়েছেন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের মোস্টওয়ান্টেডের তালিকায় রয়েছেন তিনি। কিন্তু তারই মন্ত্রণালয়ের জন্য অর্থ বরাদ্দ দিতে চায় জাতিসংঘ। সমালোচকরা জাতিসংঘের এমন সিদ্ধান্তকে বিতর্কিত বলছেন বলে জানিয়েছে এএফপি।

তালেবান সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ৬০ লাখ ডলার দেওয়া হবে। আফগানিস্তানে জাতিসংঘের যেসব স্থাপনা রয়েছে, সেই স্থাপনাগুলো পাহারা দেবেন তালেবান সদস্যরা। এই সদস্যদের বেতনের জন্য অর্থ ও তাদের মাসিক খাবারের জন্যও বরাদ্দ দেওয়া হবে। জাতিসংঘের এই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত আফগান সরকারের সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছিল, সেই চুক্তির আওতা বাড়িয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে জাতিসংঘের এমন প্রস্তাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। তারা বলছেন, এই অর্থ দেওয়া হলে খোদ জাতিসংঘ বা যুক্তরাষ্ট্রের যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তা লঙ্ঘন হবে কি না, এই প্রশ্ন উঠছে। এ ছাড়া আফগানিস্তানের অন্য খাতের জন্য যে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে, সে অর্থই তালেবান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দেওয়া হবে কি না, সে নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

যুক্তরাষ্ট্র শুধু সিরাজউদ্দিন হাক্কানির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে; এমনটা নয়। তার নেতৃত্বাধীন সংগঠন হাক্কানি নেটওয়ার্কও যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসী তালিকায়। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নথি অনুসারে, এই সংগঠনটি ২০ বছর ধরে সেখানে হামলা চালিয়ে আসছে। সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদার সঙ্গে হাক্কানি নেটওয়ার্কের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। আর সিরাজউদ্দিন হাক্কানিকে ধরতে তথ্য দিতে পারলে এক কোটি ডলার পুরস্কারের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে।

আফগানিস্তানের ক্ষমতায় তালেবানদের বসতে সবচেয়ে বেশি সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে হাক্কানি নেটওয়ার্ক। আফগানিস্তানে গত চার বছরে যতগুলো বড় প্রাণঘাতী হামলা হয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হাক্কানি নেটওয়ার্ক।  ওই হামলাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াও জাতিসংঘের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীও নিহত হয়েছে।

জাতিসংঘ তালেবানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে যে অর্থ দিতে চায়, সে সংক্রান্ত কিছু নথি এসেছে রয়টার্সের হাতে। এরপর বিষয়টি জানতে চাওয়া হয়েছিল জাতিসংঘের উপমুখপাত্র ফারহান হকের কাছে। এই অর্থ দেওয়া হলে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নিষেধাজ্ঞার লঙ্ঘন হবে কি না, তা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি ফারহান হক। এ নিয়ে অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রও এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি।