মাকে দেয়া কথা না রাখায় বাড়ি থেকে বিতাড়িত নৌকার প্রার্থী

মাকে দেয়া কথা না রাখায় টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মগড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের নৌকার প্রার্থীকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন স্বজনেরা। তিনি এখন ভাড়া বাসায় থাকেন বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, আগামী ২৬ ডিসেম্বর চতুর্থ ধাপে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মগড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছেন সহোদর ভাই মো. কামাল হোসেন (চশমা প্রতীক)।

নৌকার প্রার্থী আজহারুল ইসলামকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার বিষয়ে তার ছোটভাই স্বতন্ত্র প্রার্থী বলেন, গত নির্বাচনের সময় বড়ভাই তাকে তার মায়ের সামনে কথা দিয়েছিলেন এবার চেয়ারম্যান পদে তিনি প্রার্থী না হয়ে আমাকে প্রার্থী করবেন। কিন্তু তিনি কথা রাখেননি। মাসহ অপর ছয় ভাই এবং বেশির ভাগ আত্মীয়স্বজনের তার প্রতি সমর্থন রয়েছে। এবার নির্বাচন করায় তাকে বাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

তাদের দুই ভাইয়ের বিষয়টি নিয়ে টাঙ্গাইলজুড়ে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইছে। আত্মীয়স্বজনরাও আলাদা আলাদা পক্ষ নিয়েছেন। ভোটাররাও বিব্রত হচ্ছেন, কাকে ভোট দেবেন।

এ ছাড়া আরো দুই বিদ্রোহী প্রার্থী হচ্ছেন- সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মোতালিব হোসেন (আনারস প্রতীক) ও সদর উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি শফিকুল ইসলাম বুলবুল (মোটরসাইকেল)। বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় তিনজনকেই দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। জাতীয় পার্টি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আব্দুল বাছেদ মণ্ডল।

আজহারুল ইসলাম এ ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। তিনি মনে করেন ভোটযুদ্ধে অংশ নিয়ে তাদের সম্পর্কের অবনতি হবে না। তিনি জানান, পরপর দুইবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এলাকার মানুষের জন্য কাজ করেছেন। তাই এলাকার মানুষ ও দল তাকেই চেয়েছে। এ জন্যই প্রার্থী হয়েছেন। ভাইকে তিনি ভাইয়ের চোখেই দেখেন।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এএইচএম কামরুল হাসান বলেন, চতুর্থ ধাপে টাঙ্গাইলের তিন উপজেলার ২১টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে মোট চেয়ারম্যান প্রার্থী ৯৭ জন। সাধারণ সদস্য প্রার্থী ৬৮৫ জন ও সংরক্ষিত প্রার্থী ২৩২ জন। মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৬ হাজার ১৮৭ জন। নির্বাচনের সব প্রস্তুতি শেষ। আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে আশাবাদী।