রাজধানীর মোহাম্মদপুরে গৃহবধূ সিনথিয়ার রহস্যজনক মৃত্যুর তদন্ত থমকে আছে। তাকে আত্মহত্যা না হত্যা করা হয়েছে তার জট খোলেনি। তবে সিনথিয়ার পরিবারের দাবি, যৌতুক না পেয়ে তাকে নির্যাতন করে হত্যার পর তার মৃতদেহ দড়িতে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করেছে স্বামী।
জানা গেছে, নিহত সিনথিয়া মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার কলমা শরিফাবাদ সরকারি স্কুলের সাবেক শিক্ষক দেলোয়ার শেখের একমাত্র মেয়ে। তিনি কলমা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান গুলজার হোসেনের ভাতিজি। ২০১১ সালের ৩১ অক্টোবর পারিবারিক সম্মতিতে মনির হোসেনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা রাজধানীর মোহাম্মদপুর ২ নম্বর সড়কের চাঁন মিয়া হাউজিংয়ের জিয়াসমিন গার্ডেনের দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে বসবাস করতে থাকেন।
সিনথিয়ার মা ঝর্না বেগম অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকে যৌতুকের জন্য প্রায়ই সিনথিয়ার ওপর নির্যাতন চালানো হতো। যৌতুকের টাকা পেতে গত ২৯ নভেম্বর তাকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখে পরিবারের সদস্যরা। খবর পেয়ে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে পাঠায়।
তিনি জানান, ওইদিন ঢামেক মর্গে নিহত সিনথিয়ার মৃতদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হলেও ভিসেরা রিপোর্টের জন্য ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দিতে বিলম্ব হচ্ছে। এই দীর্ঘসূত্রিতার কারণে অভিযুক্তরা সিনথিয়ার পরিবারের সদস্যদের নানাভাবে হুমকি প্রদর্শন করছে। যাতে তারা সিনথিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে কোনো দেন-দরবার না করে।
নিহত সিনথিয়ার মা জানান, থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। পরে তিনি আদালত একটি পিটিশন মামলা করেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয় যে, স্বামী মনির ফফকির সিনথিয়াকে প্রায়ই মারধর করতো। এই নিয়ে পারিবারিকভাবে কয়েকদফা বিচার-সালিশও হয়েছে। কিন্তু মনির ফকিরের স্বভাবের কোনো পরিবর্তন হয়নি। সিনথিয়া তার দুই ছেলে সন্তানের ভবিষ্যত চিন্তা করে মুখ বুজে মনিরের অত্যাচার সহ্য করতেন।
সিনথিয়ার মৃত্যু সম্পর্কে তার ভাই বাবু শেখ বলেছেন, মনির ফকির আমার বোনকে নির্মমভাবে মেরে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে হত্যার ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা করছে। মৃত সিনথিয়ার পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় থানায় মামলা করতে ব্যর্থ হয়ে আদালতে পিটিশন মামলা দায়ের করেন।
এ বিষয়ে থানা পুলিশ কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানান।