বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত মোস্তফা ওসমান তুরান বলেছেন, বাংলাদেশ ও তুরস্ক সহযোগিতার বিস্তৃত ক্ষেত্র নিয়ে কাজের মাধ্যমে একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে ভূ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর ক্ষেত্রে দুই দেশের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
তুর্কি রাষ্ট্রদূত বলেন, আমরা সব বড় শক্তির সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছি, তবে নির্দিষ্ট কোনও পক্ষে অবস্থান নেয়নি। আমি মনে করি, আমাদের এই নিরপেক্ষ অবস্থান বাংলাদেশের সঙ্গে একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।
বৃহস্পতিবার কসমস গ্রুপের জনহিতকর প্রতিষ্ঠান কসমস ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক: ভবিষ্যতের জন্য পূর্বাভাস’ শীর্ষক ভার্চুয়াল সংলাপে তিনি এ সব বলেন। সংলাপে উভয় দেশের বিশেষজ্ঞরা দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কের অবস্থা মূল্যায়ন করেন এবং এই সম্পর্ককে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ ও সুযোগগুলো চিহ্নিত করেন।
সংলাপে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন কসমস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এনায়েতুল্লাহ খান। সভাপতিত্ব করেন প্রখ্যাত কূটনীতিক ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ড. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী। আলোচক প্যানেলে ছিলেন- বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের সিনিয়র ফেলো শাফকাত মুনীর, সাবেক রাষ্ট্রদূত তারিক এ করিম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. লাইলুফার ইয়াসমিন প্রমুখ।
তুর্কি রাষ্ট্রদূত তুরান বলেন, তিনি মনে করেন ‘ভূ-কৌশলগত প্রতিযোগিতায়’ তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা করতে পেরে বাংলাদেশ সরকারও আনন্দিত হবে। ইন্দো-প্যাসিফিক নীতি বা বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগে তুরস্ক কোনো নির্দিষ্ট পক্ষেই অবস্থান করে না। তারা বাংলাদেশের মতো একটি মধ্যম পথ অনুসরণ করার চেষ্টা করে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের এই ৫০ বছরের অগ্রযাত্রা শুধু এই দেশের জনগণের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ না, এর সঙ্গে তার সকল বন্ধুপ্রতিম দেশ ও অংশীদারদের জন্যও এই যাত্রা আশার আলোর মতো।
এ সময় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে সুদৃঢ় করার জন্য রাষ্ট্রদূত তুরানের নিরলস প্রচেষ্টার প্রশংসা করে এনায়েতুল্লাহ খান বলেন, বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ বর্তমানের মতো এত উজ্জ্বল আর কখনো দেখা যায়নি।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের সিনিয়র ফেলো শাফকাত মুনীর বলেন, তার (তুরানের) নেতৃত্বে বাংলাদেশে অবস্থিত তুরস্কের দূতাবাস ঢাকা-আঙ্কারা সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য অসাধারণ কাজ করেছে।
এই নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলেন, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ একটি ক্ষেত্র। তুরস্কের দূতাবাস আঙ্কারা ও ঢাকার সম্পর্ককে অনেক গুরুত্ব দিচ্ছে।
শাফাকাত মুনীর আরও বলেন, ৭০ এর দশক থেকেই বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বিনিময় হয়ে আসছে। তবে আমরা প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার যে প্রেক্ষিত দেখছি, নিঃসন্দেহে তা অতীতের যে কোনও সময়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে।
তিনি বলেন, সম্প্রতি সামুদ্রিক যান অধিগ্রহণ বিষয়ে যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, তার ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে আলোচনা চলছে এবং দুই দেশের মধ্যে বিমানবাহিনীর সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও কথা হচ্ছে।
অন্যদিকে, রোহিঙ্গা সংকট পঞ্চম বছরে পদার্পণ করা বিষয়ে তিনি বলেন, এই সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য বাংলাদেশ গ্লোবাল ফোরামে বা ওআইসি-তেও আঙ্কারার অব্যাহত সহযোগিতা ও সমর্থন আশা করবে।
ড. লাইলুফার ইয়াসমিন বলেন, তুরস্ক একটি কার্যকর বৈদেশিক নীতি গ্রহণ করেছে। কারণ এটি একটি মধ্যম শক্তি বা আন্তঃমহাদেশীয় দেশ। সুতরাং, আমরা বিশ্বাস করি একটি মধ্যম শক্তি হিসেবে তুরস্কের এই ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান; আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আমাদের সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে সাহায্য করবে।
অন্যান্য বক্তাদের কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ-তুরস্ক আন্তসম্পর্ক বর্তমানের চেয়ে কখনো বেশি ভালো ছিল না। তুরস্ক তার পররাষ্ট্রনীতির অংশ হিসাবে ‘এশিয়া এ নিউ ইনিশিয়েটিভ’ গ্রহণ করেছে এবং অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এশিয়ার সঙ্গে পুনরায় যুক্ত হচ্ছে।
প্রযুক্তি হস্তান্তর বা যৌথ উদ্যোগের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, এগুলো থেকে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা খাতও উপকৃত হতে পারে।
রাষ্ট্রদূত তারিক করিম তুর্কি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সম্মতি জানিয়ে বলেন, আমি তার বক্তব্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত। আমি ইতিমধ্যে দেশটি থেকে প্রচুর সহযোগিতা পাওয়ার সম্ভাবনা দেখছি।