খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ঘটনাকে ‘একটি পক্ষের কারসাজি বলে অভিহিত করেছেন’ নজরুল ইসলাম মঞ্জু। শনিবার দুপুরে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত চিঠিতে তাকে অব্যাহতির কথা জানানো হয়।
একই সঙ্গে নজরুল ইসলাম মঞ্জুর জায়গায় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর আগে অমিত বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
চিঠি প্রাপ্তির কথা স্বীকার করে শনিবার খুলনা মহানগর বিএনপির সদ্যবিদায়ী সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘আমার প্রতি অবিচার করা হয়েছে।’
খুলনা বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৯ ডিসেম্বর খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপির আংশিক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় কমিটি। মহানগর বিএনপির কমিটি গঠন নিয়ে সিনিয়র নেতাদের সমালোচনা করেন মঞ্জু। কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় ১২ ডিসেম্বর খুলনা প্রেসক্লাবে অনুসারীদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন তিনি। সেখান থেকে নতুন কমিটি গঠনে ত্যাগী নেতাদের বাদ দেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি কমিটি পুনর্গঠনের দাবি জানান।
বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, এর দুই দিন পর ১৪ ডিসেম্বর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে নজরুল ইসলামকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেয় কেন্দ্রীয় বিএনপি। তিন দিনের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছিল ওই নোটিশে।এই কারণে তাকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, তিন মাস আগে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের (তারেক রহমান) কাছে ২৯ পাতার একটি আবেদন জমা দেওয়া হয়েছিল। তাতে এ অঞ্চলের দল গঠনে যে অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা হয়েছে তার প্রতিকার চাওয়া হয়েছিল, সেই আবেদন মূল্যায়িত হয়নি। অথচ আকস্মিকভাবে মহানগর ও জেলা বিএনপির আংশিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটি গঠনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে খুলনা বিএনপির সঙ্গে জড়িত থাকা কারো সঙ্গেই কোনো আলোচনা করা হয়নি। একটি পক্ষ কারসাজি করে এ কাজ করেছে।
ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, আমি ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ার চিঠি কিছুক্ষণ আগে পেয়েছি। তবে, কেন উনাকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এই বিষয়ে কিছু জানি না।