ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে আগুনে পুড়ে যাওয়া যাত্রীবাহী লঞ্চ অভিযান ১০ পরিদর্শন করেছেন ফায়ার সার্ভিসের অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স বিভাগের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিল্লুর রহমান (পিএসসি)।
তিনি বলেন, নদীর পানি ব্যবহার করেই লঞ্চে কর্মচারীরা পাম্প মেশিনের মাধ্যমে আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে পারত, সেটিও করেননি তারা। আমাদের তদন্ত কমিটি কাজ করছে। তদন্ত শেষ হলে আগুনের সূত্রপাতের কারণ জানা যাবে।
রবিবার দুপুরে তিনি ঝালকাঠি লঞ্চ ঘাট এলাকার দুর্ঘটনা কবলিত লঞ্চটি পরিদর্শন করেন।
জিল্লুর রহমান বলেন, লঞ্চটিতে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র থাকলে হতাহতের সংখ্যা এত বাড়ত না। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে যদি জাহাজের চালক দ্রুত লঞ্চটি কিনারায় ভিড়িয়ে নোঙর করতেন, তাহলে যাত্রীরা পাড়ে নামার সুযোগ পেতেন। কিন্তু সে কাজটিও লঞ্চের চালক ও কর্মচারীরা করেনি।
তিনি আরও বলেন, একটি বড় লঞ্চ যেটিতে কমপক্ষে আটশত থেকে এক হাজার যাত্রী চলাচল করে। দুর্ঘটনার সময় সেটি যদি নদীর মাঝখানে রেখে চালকসহ কর্মচারীরা চলে যায় তাহলে তো সেটা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়বেই এবং সেখানে হতাহতের সংখ্যা তো বাড়বেই। যারা মারা গেছেন, লঞ্চটি তীরে নোঙর করলে তারাও বাঁচতে পারতেন। কিন্তু লঞ্চের কর্মচারীরা সেটা করেনি।
লঞ্চটিতে ফায়ার পাম্প ছিল কিনা সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগুন সকল ধরনের আলামত নষ্ট করে দিয়েছে। আমরা লঞ্চটি পরিদর্শন করে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সবকিছুই পোড়া অবস্থায় পেয়েছি। এই জাহাজের ভেতর ইঞ্জিনসহ ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতি যা যা ছিল সবকিছুই আমরা পোড়া অবস্থায় দেখেছি। পরিদর্শন করে আমরা যেটা দেখেছি এ লঞ্চে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ছিল না। এ ছাড়া যারা দায়িত্বে ছিল তারাও সঠিক দায়িত্ব পালন করেনি।
আগুনে পোড়া লঞ্চটিতে কতজন যাত্রী ছিল তার সঠিক তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। বিআইডব্লিউটিএ থেকে জানানো হয়েছে, লঞ্চটিতে প্রায় ৪০০ যাত্রী ছিল। তবে লঞ্চ থেকে প্রাণে বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের অনেকে বলছেন, এই লঞ্চে যাত্রী ছিল ৮০০ থেকে এক হাজার।