ব্যাটিং পাল্টায়নি ইংল্যান্ডের

বড়দিনে পাওয়া উপহারের বাক্স পরদিন খোলে খ্রিস্টধর্মের অনুসারীরা। তাই ২৬ ডিসেম্বরও থাকে উৎসবের আমেজ। কিন্তু সেই বক্সিং-ডেতে অস্ট্রেলীয়রা উৎসব করলেও বিপরীত চিত্র ইংল্যান্ডের। ভেন্যু পাল্টেও ব্যাটিংয়ের ভাগ্য বদল হয়নি তাদের। দলে ফিরে দারুণ বোলিংয়ে সুর বেঁধে দিয়েছিলেন প্যাট কামিন্স। তাকে সহযোগিতা দিলেন অস্ট্রেলিয়ার অন্য বোলাররাও। ইংলিশ ব্যাটসম্যানরাও যেন মেলে ধরলেন বাজে শটের প্রদর্শনী। তাদের প্রথম ইনিংস গুটিয়ে গেল দুইশর আগেই। ইংল্যান্ডকে ১৮৫ রানে অলআউট করে ডেভিড ওয়ার্নারের উইকেট হারিয়ে অস্ট্রেলিয়া তুলেছে ৬১ রান। দুই টেস্ট জিতে এগিয়ে থাকা অজিরা পিছিয়ে আছে কেবল ১২৪ রানে।

বৃষ্টির কারণে ৩০ মিনিট দেরিতে শুরু হওয়া খেলায় টস হেরে ব্যাট করতে নেমে দিনের দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। ওপেনার হাসিব হামিদ কামিন্সের ৫ম বলেই ধরা পড়েন উইকেটের পেছনে। রোরি বার্নসের জায়গায় নেমে জ্যাক ক্রলিও ব্যর্থ। ১২ রান করে তিনিও শিকার কামিন্সের। ডাভিড মালানথিতু হওয়ার চেষ্টা করেও (৬৬ বলে ১৪) কাবু হন কামিন্সের ঝাঁজে। ৬১ রানে ৩ উইকেট হারানো দলকে দিশে দেওয়ার চেষ্টায় ছিলেন রুট। থিতু হয়ে আশাও বাড়াচ্ছিলেন তিনি। ইংল্যান্ড অধিনায়কের সম্ভাবনাময় ইনিংসটা থেমেছে ফিফটি স্পর্শ করেই। স্টার্কের বলে তিনিও ধরা দেন উইকেটের পেছনে। সিরিজে আরও একবার থিতু হয়ে ইনিংস বড় করতে না পারার যন্ত্রণায় পুড়েছেন বেন স্টোকস। ৫ ইনিংসে তার স্কোর ৫, ১৪, ৩৪, ১২ ও ২৫। আগের টেস্টের নিবেদন দেখাতে পারেনি জস বাটলার। মার্ক উড, ওলি রবিনসনদের নিয়ে জুটি গড়ার চেষ্টায় চালিয়ে খুব একটা সফল হতে পারেননি একাদশে ফেরা বেয়ারস্টো। ৩৫ করা বেয়ারস্টোকে স্টার্ক ফিরিয়ে দিলে আর কোনো সম্ভাবনা থাকেনি ইংল্যান্ডের। দ্রুতই লেজ মুড়ে দেন লায়ন। তিনি ও কামিন্স নিয়েছেন ৩টি করে উইকেট। স্টার্ক নেন দুটি। উডকে এলবিডাব্লিউ অভিষিক্ত আদিবাসী বোলার বোল্যান্ড নিয়েছেন তার প্রথম উইকেটের স্বাদ।

জবাবে দুই ওপেনার মার্কাস হ্যারিস ও ডেভিড ওয়ার্নার অনায়াসেই এগিয়ে যেতে থাকেন। খেলতে থাকেন আগ্রাসী মেজাজে। একদম শেষ বিকেলে ৪২ বলে ৩৮ করা ওয়ার্নারকে তুলে নেন জেমস অ্যান্ডারসন। ৫১ বলে ২০ রান করে অপরাজিত আছেন হ্যারিস। তার সঙ্গে নাইটওয়াচম্যান লায়নের সংগ্রহ ৫ রান।