সাতছড়ি উদ্যানে রকেট, গ্রেনেড, মেশিনগানসহ অস্ত্র উদ্ধার

হবিগঞ্জের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান থেকে ১৫টি রকেট, গ্রেনেড (আরপিজি), ২৫টি বোষ্টার, ৫১০টি মেশিনগানের গুলি উদ্ধার করেছে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট।

সোমবার ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করে এসব উদ্ধার করা হয়।

অভিযানের নেতৃত্বে থাকা কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের ডিআইজি আসাদুজ্জামান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিকেলে চুনারুঘাট থানার সম্মুখে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, রবিবার সন্ধ্যায় ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় পিস্তলসহ আটক করা হয় আবেল ত্রিপুরা অমিত (৩৩) নামে এক যুবককে। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ওই দিন রাতেই ঢাকা থেকে তাকে নিয়ে সাতছড়িতে রওনা করা হয়। অমিত খাগড়াছড়ি জেলার পানচড়ির এলাকার বাসিন্দা। এ নিয়ে অস্ত্র উদ্ধারের জন্য নবমবারের অভিযান চালানো হল।

তিনি জানান, আবেলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী অভিযান চালানো হবে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের জয়েন্ট কমিশনার ইলিয়াস শরীফ, স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপের ডিসি আবদুল মান্নান, হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার এস এম মুরাদ আলী প্রমুখ।

এর আগে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান থেকে অস্ত্র উদ্ধার করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গত ১৩ আগস্ট সন্ধ্যায় সাতছড়ি উদ্যানের মূল ফটক থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে মাটির নিচ থেকে ৯টি একনলা বন্দুক, ৩টি পিস্তল ও ১৯ রাউন্ড পিস্তলের গুলি করে।

গত ২ মার্চ বিজিবি বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১৮টি ট্যাংক বিধ্বংসী রকেট লঞ্চার উদ্ধার করে।

এ নিয়ে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে অষ্টমবারের মতো অস্ত্র উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হলো।

২০১৪ সালের ১ জুন থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন দফায় র‌্যাব অভিযান চালিয়ে সাতছড়ি থেকে ৩৩৪টি কামান বিধ্বংসী রকেট, ২৯৬টি রকেট চার্জার, একটি রকেট লঞ্চার, ১৬টি মেশিনগান, একটি বেটাগান, ছয়টি এসএলআর, একটি অটো রাইফেল, পাঁচটি মেশিনগানের অতিরিক্ত খালি ব্যারেল, প্রায় ১৬ হাজার রাউন্ড বুলেটসহ বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার করে।

এরপর একই বছরের ১৬ অক্টোবর চতুর্থ দফায় গহিন অরণ্যে মাটি খুঁড়ে তিনটি মেশিনগান, চারটি ব্যারেল, আটটি ম্যাগাজিন, ২৫০ গুলির ধারণক্ষমতা সম্পন্ন আটটি বেল্ট ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন একটি রেডিও উদ্ধার করা হয়। পরে ১৭ অক্টোবর দুপুরে এসএমজি ও এলএমজির ৮ হাজার ৩৬০ রাউন্ড, থ্রি নট থ্রি রাইফেলের ১৫২ রাউন্ড, পিস্তলের ৫১৭ রাউন্ড, মেশিনগানের ৪২৫ রাউন্ডসহ মোট ৯ হাজার ৪৫৪ রাউন্ড বুলেট উদ্ধার করা হয়।

৫ম দফায় ২০১৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি সাতছড়িতে অভিযান পরিচালনা করে ১০টি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ৪০ এমএম অ্যান্টি-ট্যাংক রকেট উদ্ধার হয়।  ষষ্ঠ দফায় ২০১৯ সালের ২৪ নভেম্বর সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান থেকে ১৩টি রকেট লঞ্চারের শেলসহ বেশ কিছু বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়।

২০১৪ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে দায়ের হওয়া তিনটি মামলা চুনারুঘাট পুলিশ তদন্ত করে চূড়ান্ত রিপোর্ট আদালতে দাখিল করেছে।