‘বল বীর -/ বল উন্নত মম শির!/ শির নেহারি’ আমারি নতশির, ওই শিখর হিমাদ্রির!’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘বিদ্রোহী’ কবিতার এই লাইনগুলো শুনলেই গা শিউরে উঠে উত্তেজনায়। নানা আবৃত্তি শিল্পীর কণ্ঠে বহুবার শুনে থাকবেন এই কবিতা। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে এই কবিতার আবৃত্তির একটি ভিডিও। অনেকেই বলছেন, এ যাবৎ প্রকাশিত ‘বিদ্রাহী’ কবিতার সেরা আবৃত্তি এটাই।
গত ২৪ ডিসেম্বর, শুক্রবার জিটিভিতে প্রচারিত কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে ‘তোমারে দেব না ভুলিতে’ অনুষ্ঠানে এই আবৃত্তি করেন রেজাউল হোসাইন টিটো। নজরুল চর্চা কেন্দ্র ‘বাঁশরী’ নিবেদিত এই অনুষ্ঠানে নজরুলের উপর আলোচনা ও নজরুল সংগীত প্রচারিত হলেও টিটোর দরাজ কণ্ঠের আবৃত্তি ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে। অনেকেই শেয়ার করেছেন আবৃত্তির ভিডিওটি। জহির আহমেদ নামের একজন ভিডিওটি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘আমার ধারণা এটিই 'বিদ্রোহী' কবিতার শ্রেষ্ঠ আবৃত্তি। আবৃত্তিকারকে স্যালুট।’
নাবিল হাসান নামের একজন লিখেছেন, ‘বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী কবিতার এতো সুন্দর আবৃত্তি জীবনেও শুনি নাই। মিনমিন করে আর মেকি গম্ভীর কণ্ঠে গমগম করে কবিতা আবৃত্তির বিপরীতে আবৃত্তি শিল্পী, একটা সার্থক উদাহরণ তৈরি করলেন, এই আবৃত্তিতে। ভিডিওর শুরুতে আমি স্পষ্টভাবে নামটা পড়তে পারিনি, যদিও পরে জানতে পারলাম ওনার নাম রেজাউল হোসেন টিটো। বহুদিন পর কারও কবিতা সত্যিই মন ছুঁয়ে গেল, আস্বাদন করলাম এক সার্থক শিল্পের বাস্তব প্রয়োগ।’
কবিতার আবৃত্তি ভাইরাল হওয়ার সূত্র ধরে দেশ রূপান্তর যোগাযোগ করে রেজাউল হোসাইন টিটোর সঙ্গে। উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে টিটো বলেন, ‘অনেকেই অনেক ভাবে এটা আবৃত্তি করে। আমি আমার মতো করে করার চেষ্টা করেছি। ভাইরালের ব্যাপারটা অপ্রত্যাশিত ছিল। এটা সত্যিই আনন্দের বিষয়।’
নেটিজেনদের মন্তব্যের বিষয়ে নজর কাড়লে বিনয়ের সঙ্গে টিটো বলেন, ‘আমাদের গুরু হচ্ছেন কাজী সব্যসাচী। তার আবৃত্তিকে ছাড়িয়ে যাওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। ইঞ্জিনিয়ার খালেকুজ্জামানের নজরুল চর্চার সংগঠন ‘বাঁশরী’ থেকে আমাকে কবিতাটি আবৃত্তি করার আহ্বান জানানো হয়। এবারই প্রথম নয়, এর আগে ২০১৭ সালে লাখো কণ্ঠে ‘বিদ্রোহী’ কবিতা আবৃত্তির অনুষ্ঠানেও আমার নেতৃত্বে কবিতাটি আবৃত্তি করা হয়েছিল। আমি ছোট মানুষ, সেই দায়িত্ব নিতে চাইনি, তারপরও খালেকুজ্জামান আমাকে ভালোবেসে দায়িত্বটা অর্পণ করেন। এরপর কলকাতার এক অনুষ্ঠানেও ‘বিদ্রোহী’ কবিতা আবৃত্তি করার পর মুহুর্মুহু তালি পাওয়ার পর ভেবেছি, হয়তো আমার কণ্ঠে কিছু একটা আছে। সেই থেকেই অনুপ্রেরণা। আর এবার অপ্রত্যাশিত সাড়া পেলাম।’
কবিতা আবৃত্তির ধরন নিয়ে টিটো বলেন, ‘কাজী সব্যসাচী ‘বিদ্রোহী’ কবিতার যে স্টাইলটা দাঁড় করিয়েছেন সেই স্টাইলের ভেতরে থেকেই কিছুটা ভিন্নতা আনার চেষ্টা করেছি। কাজী সব্যসাচী কবিতাটির ‘বল বীর’ শব্দটাতে ‘বীর’ অর্থে নিজেকেই বলেছেন, কিন্তু আমি ভাইরাল হওয়া আবৃত্তিটাতে ‘বীর’ নিজেকে না বলে অডিয়েন্স তথা আপনাকে বা আপনাদের উদ্দেশ্যে বলেছি। ফলে কবিতাটির আবৃত্তি অন্যমাত্রা পেয়েছে বলে মনে করি।’
রেজাউল হোসাইন টিটোর পৈতৃক বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় হলেও তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকার হাজারিবাগে। বর্তমানে মোহাম্মদপুরে বাস করেন। ছোটবেলা থেকেই আবৃত্তি চর্চা করেন টিটো। বর্তমানে নজরুল চর্চা কেন্দ্র ‘বাঁশরী’র সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তিনি।