‘আমি সৌভাগ্যবান আমার তরুণ নির্মাতা বন্ধুরা আমাকে নিয়ে ভাবছেন’

সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে তারিক আনাম খান অভিনীত ‘মৃধা বনাম মৃধা’। বর্ষীয়ান এই অভিনেতা সিনেমা ও অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা বললেন দেশ রূপান্তরের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সুদীপ্ত সাইদ খান।

‘মৃধা বনাম মৃধা’ সিনেমায় কাজের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

আমি তো রনীকে আগে থেকে চিনতাম না। ছবির সূত্র ধরেই তার সঙ্গে পরিচয়। আমি চিনি রায়হান এবং নোভাকে। রায়হানের স্ক্রিপ্ট, এবং কনটেন্ট সম্পর্কে ধারণা আছে। এরপর রনীর কাছে গল্পটা শোনা। সিয়াম, নোভা এবং রায়হান ছিল। রায়হানের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা অনেক বেশি। ফলে দ্বিতীয়বার আর ভাবিনি রনীর সঙ্গে কাজে যুক্ত হওয়া ঠিক হবে কিনা? কারণ বিজ্ঞাপন নির্মাতারা জানেন যে কিভাবে ক্যামেরা দিয়ে গল্পটা বলতে হয়। আর এই ধরনের চরিত্রগুলো সামহাউ আমার সঙ্গে যায় বলেই মনে হয়। এবং আমাকে যারা চেনেন জানেন তারা এই ধরনেরর চরিত্রে আমার ব্যাপারে আস্থা রাখেন। সেই আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গা থেকেই কাজটা করা।

ইতিমধ্যেই ছবিটি অনেকে দেখেছেন আবার অনেকে দেখেননি। অনেকেই প্রশংসা করছেন। যারা দেখেননি তাদের উদ্দেশ্যে বলব, বাবা ছেলের পারিবারিক দ্বন্দ্ব নিয়ে সিনেমা। কাজ করার অভিজ্ঞতা চমকপ্রদ। একটা খোলামন নিয়ে দেখার বিশেষ জায়গাটা এখানে তৈরি হয়েছে। আমরা টিমটা ডেভলপ করতে পেরেছিলাম। আমাদের এখানে ভালো সিনেমা ও কমার্শিয়াল সিনেমার যে ব্যাপার আছে এই সিনেমাটায় একদিকে ভালো সিনেমা ও কমার্শিয়াল সিনেমার মেলবন্ধন করা হয়েছে। বাবা মা’ পরিবারের সম্পর্ক, বন্ডিং কিভাবে গড়ে, কীভাবে ভাঙে- তা এই ছবিটা দেখলে বোঝা যাবে। এই ছবির ভেতরে বাংলা সিনেমার মতো নানা ধরনের খুনসুটিও আছে। আধুনিক একটা ব্যাপার আছে। ক্লিশে জায়গা থেকে বেরিয়ে অন্যরকম একটা ব্যাপার আছে। ভালো সিনেমা এবং বাণিজ্যিক সিনেমার একটা মেলবন্ধন করার চেষ্টা করা হয়েছে এই ছবিতে যেটা দর্শকরা দেখতে পাবেন। নতুন ধরনের অভিজ্ঞতা নিয়ে বের হবেন দর্শক। আমরা সবাই পরিমিত অভিনয় এবং সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি।’

সিনে ইন্ডাস্ট্রিতে চার দশক পেরিয়ে এসেছেন, টোটাল জার্নিটা কেমন ছিল। কতটুকু তৃপ্ত আপনি?

আমরা প্রয়োগ শিল্পের ক্ষেত্রে থাকি। যেটা সময়ের সঙ্গে, সমাজের সঙ্গে থাকে সব সময়। একজন অভিনেতা যদি নিজেকে পরিবর্তনের ভেতর দিয়ে না নিয়ে যান তাহলে তিনি সময়ের সঙ্গে থাকবেন না। যেকোনো শিল্পীকেই বর্তমান যে সময়, তার সঙ্গে যেতে হবে। আমরা যদি পার্শ্ববর্তী দেশের অভিনেতা অমিতাভ বচ্চনকে দেখি তিনি কিন্তু সব সময় নিজেকে আপগ্রেড করেন। চেষ্টার একটা চূড়ান্ত মুহূর্তে চলে যান। তো ওই সময়টা ভালো ছিল, এই সময়টা খারাপ-আমি এইভাবে কখনো দেখি না, দেখা উচিত বলেও মনে করি না। আজকের জন্য যেটা সত্য সেটাই বড় সত্য। এখন অনেক পরিবর্তন হয়েছে, অনেক কিছু মিলিয়ে। সো আমার মনে হয়, আজকেই যদি আমি ৪০ বছর আগের ঘুড্ডি চলচ্চিত্রটা করি। তাহলে আজকের সময়ে বসে একটা ভিন্নমাত্রা যোগ করার চেষ্টা করব। যেটা আমাকে অভিনয়ের এই যাত্রাটা আমাকে দিয়েছে। অভিনেতা বা যিনি সিনেমা বানান তাকে এগিয়ে যেতে হয় সময়ের সঙ্গে। আমার মনে হয় যে যে কাজটা করছি সেটাই আমার শেষ কাজ। তাই যে কাজটা করি সেটাই ভালো করে করার চেষ্টা করি। আমরা যারা অভিনয় করি তারা হান্ড্রেড পারসেন্ট দিতে চেষ্টা করি কিন্তু সিক্সটি বা সেভেনটি পারসেন্ট দিতে পারলেই আমি খুশি। আর চল্লিশ বছরের জার্নি অন্যরকম ব্যাপার। আমার মনে হয় যত নিজেকে ছাপিয়ে যেতে পারি ততই নিজের কাছে নিজের পাওয়া।

‘আবার বসন্ত’ মেকআপ’সহ বেশ কিছু ছবিতে ভিন্নভাবে নিজেকে মেলে ধরেছেন। এ রকম আরও প্রজেক্ট হাতে আছে কিনা?

আছে অনেকগুলো ছবিই আছে। নূরুল আলম আতিকের সঙ্গে কাজ করেছি। ভালো অভিজ্ঞতা। কিছু ওয়েবের কাজ করছি। আমি সৌভাগ্যবান যে আমার যে তরুণ নির্মাতা বন্ধুরা আছেন তারা আমাকে নিয়ে ভাবছেন।’