বাংলাদেশের উন্নয়ন নিয়ে আজ তার বিরোধী পক্ষের মধ্যেও কোনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব নেই। মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশে উৎপন্ন হতো ১ কোটি ১০ লাখ টনের মতো চাল; সাড়ে সাত কোটি মানুষের জন্য সেটা ছিল অপ্রতুল। কিন্তু এখন জনসংখ্যা বেড়ে প্রায় ১৭ কোটি হলেও খাদ্যশস্য উৎপন্ন হচ্ছে ৩ কোটি ৭০ লাখ মেট্রিক টনেরও বেশি। কৃষি খাতের এই অসামান্য সাফল্য দেশের খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তবে এতে আত্মপ্রসাদ লাভের কোনো অবকাশ নেই। বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে (এঐও) ২০২১ সালে ১১৬ টা দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৭৬তম। এর অর্থ দেশ এখনো ক্ষুধামুক্ত হিসেবে স্বীকৃত নয়; দেশে মাঝারি মানের ক্ষুধা এখনো বিরাজমান। অধিকন্তু সামনে রয়েছে পর্বত প্রমাণ চ্যালেঞ্জ; কাজেই খাদ্য নিরাপত্তা সমুন্নত রাখতে ও নিশ্চিত করতে প্রয়োজন সুসমন্বিত ও উদ্ভাবনী পরিকল্পনা এবং অবিচল রাজনৈতিক অঙ্গীকার।
বর্তমানে খাদ্য নিরাপত্তার উপাদানগুলোকে চার ভাগে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়; খাদ্যের লভ্যতা, খাদ্যলাভের সক্ষমতা, খাদ্যের জৈবিক ব্যবহার এবং খাদ্য বাজারের স্থিতিশীলতা।
দেশে খাদ্যের লভ্যতা বাড়াতে সবুজ বিপ্লব অর্থাৎ কৃষির আধুনিকায়ন বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে। তবে গতানুগতিক পদ্ধতিতে উৎপাদনের এই প্রবৃদ্ধি কতদিন টেকসই হিসেবে ধরে রাখা যাবে এবং খাদ্য নিরাপত্তায় তা উপযুক্ত ভূমিকা পালন করবে, সেটা বলা মুশকিল। সব সম্পদেরই একটা সম্পৃক্তি বিন্দু রয়েছে এবং কৃষিও তার ব্যতিক্রম না, চলমান পদ্ধতিতে কৃষির অবস্থান সম্পৃক্তি বিন্দুর সন্নিকটে।
বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ; দেশে মাথাপিছু কৃষিজমির পরিমাণ ০.০৪৮ হেক্টর (২০১৮), ভারতে ০.২ হেক্টর, আর সারা বিশ্বে ০.২৯ হেক্টর। এখনো বাংলাদেশে ১ শতাংশ হারে জনসংখ্যা বাড়ছে; অর্থাৎ প্রতি বছর ১৭/১৮ লাখ মানুষ যুক্ত হচ্ছে। অন্যদিকে, দেশের কৃষিজমি প্রতিবছর ১ শতাংশ হারে অকৃষি কাজে বেদখল হয়ে যাচ্ছে, উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই বেদখলের মাত্রা ক্রমবর্ধিত হারে বেড়ে যাবে। ফলে চাষের আনুভূমিক সম্প্রসারণের সুযোগ নেই বললেই চলে। ফসলের নিবিড়তাও এখন ১৫০ শতাংশ থেকে ১৯০ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করছে; মাটির স্বাস্থ্যও তলানিতে নেমে গেছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমেই নিম্নগামী হচ্ছে। তার ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব কৃষিতে এখন দৃশ্যমান; ঘন ঘন তীব্র মাত্রার সাইক্লোন, ঘূর্ণিঝড়, অকাল বন্যা, অতিবৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি, খরা, নদীভাঙন, উপকূলে লবণাক্ত পানির অনুপ্রবেশ প্রভৃতি কৃষির অপরিমেয় ক্ষতিসাধন করে চলেছে। সামনে তাপমাত্রা আরও বেড়ে গেলে কীটপতঙ্গের আক্রমণ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে, উপকূল অঞ্চলের এক-তৃতীয়াংশ ভূমি সাগরে তলিয়ে যাবে, অতিরিক্ত লবণাক্ত পানির অনুপ্রবেশে ক্ষয়ক্ষতি আরও বেড়ে যাবে। ফলে কৃষির পক্ষে লভ্যতার পরিমাণ অটুট রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
খাদ্যপ্রাপ্তির সক্ষমতার বিষয়টি সম্পদের মালিকানা, দারিদ্র্যের হার, আয়, মজুরি, কর্মসংস্থান, মুদ্রাস্ফীতি, সরকারি অর্থ ও খাদ্য সহায়তা প্রভৃতি বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল। কভিড-১৯ এর আগে দেশে দরিদ্র মানুষের হার ছিল ২০.৫ শতাংশ। চিন্তার বিষয় হলো আগে যে মাত্রায় দারিদ্র্যের হার কমে আসছিল, ২০০০ সালের পর থেকে প্রবৃদ্ধির উলম্ফন সত্ত্বেও দারিদ্র্য কমার হার শ্লথ হয়ে গেছে; এর অর্থ এখন প্রবৃদ্ধিই দারিদ্র হ্রাসের একমাত্র নিয়ামক নয়; আগে এই দাওয়াই যেভাবে কাজ করেছে, এখন আর সেভাবে কাজ করছে না। এর কারণ খুঁজে বের করতে হবে এবং তা দূর করার ব্যবস্থা নিতে হবে। বৈষম্য বৃদ্ধি হতে পারে এর অন্যতম কারণ; দেশে ‘গিনি কো-এফিসিয়েন্ট’ ২০১০ সালে ছিল ০.৪৫৮, ২০১৬ সালে তা বেড়ে গিয়ে দাঁড়ায় ০.৪৮২। গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো বেড়ে যাচ্ছে আঞ্চলিক বৈষম্য; দেশের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের চেয়ে পশ্চিমাঞ্চলের বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে দারিদ্র্যের অভিঘাত অনেক বেশি; চরম দারিদ্র্যের হার পূর্বাঞ্চলে ১০.৪ শতাংশ, কিন্তু পশ্চিমাঞ্চলে তা প্রায় দিগুণ; ১৯.১ শতাংশ। বেসরকারি কিছু গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন থেকে দেখা যায় যে, কভিডে ২ থেকে ২.৫ কোটি প্রান্তিক মানুষ নতুন করে দরিদ্রদের কাতারে যোগদান করেছে। সে মতে দেশে নতুন পুরাতন মিলে এখন ৪ কোটিরও বেশি মানুষ দরিদ্র। আইএলও-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২১ সালে বাংলাদেশে বেকারত্বের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫.৩ শতাংশ। যদিও সরকারি হিসাবে দেশে মুদ্রাস্ফীতি সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় শতাংশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে স্থিতিশীল রয়েছে বলা হচ্ছে, বাস্তবে এর হার অনেক বেশি বলে খোদ অর্থনীতিবিদরাই দাবি করে আসছেন।
কৃষিক্ষেত্রের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মাটির উর্বরতা প্রায় নিঃশেষ হয়ে পড়ায় এখন খাদ্যশস্য উৎপাদন সম্পূর্ণরূপে উপকরণ-নির্ভর হয়ে পড়েছে। কাজেই উৎপাদন টেকসই ও সমুন্নত রাখতে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি অবশ্যম্ভাবী। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে ভর্তুকি দিয়ে সার, জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম কৃত্রিমভাবে কমিয়ে রাখাও সম্ভব নয়। দেশে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে গড়পড়তা জিডিপির ২ থেকে ৩ শতাংশ ব্যয় করা হয়। প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় এই ব্যয় কম না হলেও এই অর্থের একটা বড় অংশ চলে যায় সরকারি কর্মচারীদের পেনশন ও মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা প্রদানে। ফলে সেখান থেকে দরিদ্রদের নিট প্রাপ্তিযোগ গিয়ে দাঁড়ায় এক শতাংশের নিচে। তাছাড়া, সুবিধাভোগী নির্বাচনে লক্ষ্যচ্যুতির হারও অনেক বেশি।
খাদ্যের জৈবিক ব্যবহারের বিষয়টা মানুষের খাদ্য গ্রহণ, পুষ্টিজ্ঞান ও তার বাস্তুসংস্থানের মিথস্ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। শুধু পর্যাপ্ত ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণই যথেষ্ট নয়; শরীরের পুষ্টিসাধন হলো মোদ্দা কথা। ডায়রিয়ায় শরীরের অনেক পুষ্টি স্বল্প সময়ে বেরিয়ে গিয়ে মানুষকে কাহিল করে ফেলতে পারে, পরজীবী কৃমিও মানুষকে অপুষ্ট করতে ওস্তাদ, রক্তাল্পতা দূর করতে শুধু লৌহসমৃদ্ধ খাবার খেলেই চলবে না; যুগপৎ ভিটামিন সি গ্রহণ জরুরি। বাংলাদেশের ২৭ শতাংশ মানুষ অপুষ্ট। শিশুদের মধ্যে অপুষ্টির প্রকোপ সবচেয়ে বেশি; এখনো শিশুদের ৩৬ শতাংশ খর্বকায়তা ও ১৪ শতাংশ কৃশকায়তার শিকার। আর ২২ শতাংশেরও বেশি শিশু জন্মই নেয় কম ওজন নিয়ে। এই অবস্থা শিশুদের শিক্ষণ প্রক্রিয়াকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে। প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ সুষম খাদ্য গ্রহণ করতে পারে না। খাবারে বৈচিত্র্য নেই বললেই চলে; ৭১ শতাংশ ক্যালরি আসে চাল থেকে; ভিটামিন এ, ক্যালসিয়াম, জিংক, আয়রনের অভাব ব্যাপক। ২০২০ সালে যে জাতীয় খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নীতি প্রণয়ন করা হয়েছে, তাতে অবশ্য নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা প্রবর্তন, কৃষিতে বৈচিত্র্য আনয়ন ও নানা কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে পুষ্টির উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য দারিদ্র্য বিমোচন, আয় বর্ধন ও স্বাস্থ্যজ্ঞান প্রদান করা না গেলে কোনো কর্মসূচিই সফল হতে পারে না।
বাজারের স্থিতিশীলতা প্রধানত বিঘ্নিত হয় আকস্মিক উৎপাদন ঘাটতি, পরিবহন ব্যবস্থায় ব্যাঘাত, পণ্য স্থানান্তরে বিধিনিষেধ, প্রাকৃতিক ও মনুষ্য-সৃষ্ট বিপর্যয় প্রভৃতির মাধ্যমে। সাধারণত বাজারে স্থিতিশীলতা অর্জিত হয় প্রতিযোগিতামূলক বাজার ব্যবস্থায় অবাধ ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে। সরকারের নিরাপত্তা মজুদও একটা ভূমিকা পালন করে। দেশে সড়কের অবকাঠামো ও নিবিড়তা অনেক বেশি হলেও নির্ভরযোগ্য তথ্যের মারাত্মক সংকট রয়েছে। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী দেশ খাদ্যশস্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। অথচ এখনো দেশে প্রতি বছর ৫৫ থেকে ৬০ লাখ মেট্রিক টন গম আমদানি করা হচ্ছে। এ যেন নাসির উদ্দিন হোজ্জার বিড়াল ও মাংসের গোলক ধাঁধা; মাংস এক সের হলে বিড়াল কই? আর বিড়াল এক সের হলে মাংস কই? এর ফলে কোনো বিশেষ পরিস্থিতির উদ্ভব হলে সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে; এ অবস্থায় গুজব ও অনিশ্চয়তার আশঙ্কায় বাজার অস্থির হয়ে ওঠে।
খাদ্য নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যেসব নীতি ও কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে, সেগুলোর অধিকাংশই কৃষি ও ভূমিকেন্দ্রিক, গতানুগতিক ও বৈচিত্র্যহীন; ফসলের উৎপাদনশীলতা ও নিবিড়তা বাড়ানো, বৈচিত্র্য আনয়ন, অনাবাদী ভূমি চাষের আওতায় আনয়ন, এক ও দুই ফসলি জমিকে তিন ফসলিতে রূপান্তরকরণ, খরা, বন্যা ও লবণাক্ততা সহিষ্ণু ফসলের জাত উদ্ভাবন প্রভৃতি। এগুলো অবশ্যই করতে হবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো আমরা কি যথেষ্ট দক্ষতার সঙ্গে এই কাজগুলো করতে পারছি? যদিও আমাদের গবেষকরা দাবি করেন যে চাল উৎপাদনে আমাদের তুলনামূলক সুবিধা রয়েছে, কিন্তু এখানে উৎপাদন খরচ প্রতিবেশীদের তুলনায় সব সময়ই বেশি দেখা যায়। তার ওপর এখন ক্রমবর্ধমান মূল্যের উপাদান বিনিয়োগে উৎপাদন বাড়ালে খরচ ও মূল্য আরও বেড়ে যাবে। তাতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে। এজন্য খরচ ও ভূমি সাশ্রয়ী উৎপাদন বৃদ্ধির কৌশল উদ্ভাবন করার ব্যবস্থা নিতে হবে।
বর্তমানে শিল্পায়ন, নগরায়ণ ও আয় বৃদ্ধির ফলে খাদ্য ব্যবস্থার রূপান্তর ঘটছে। শহরাঞ্চলের ক্রমবর্ধমান যুবক শ্রেণির খাদ্যাভ্যাসে এসেছে বিরাট পরিবর্তন। উচ্চমূল্য পণ্য ও প্রক্রিয়াজাত পণ্যের চাহিদা বেড়ে যাচ্ছে, নিত্যনতুন পণ্য খাদ্য তালিকায় হচ্ছে সংযোজিত। জলবায়ু পরিবর্তন এক্ষেত্রে এনেছে নতুন মাত্রা। এটাকে একটা সুযোগ হিসেবে নিয়ে খাদ্য তালিকায় নতুন নতুন অপ্রচলিত অথচ পুষ্টিসমৃদ্ধ পণ্য যুক্ত হতে পারে। আর এক্ষেত্রে আমাদের বিশাল সুমদ্রাঞ্চল অফুরন্ত সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে। সমুদ্রের মৎস্য সম্পদ ও জলজ উদ্ভিদ হতে পারে আমাদের ক্যালরি চাহিদা পূরণের অন্যতম প্রধান উৎস। তবে এর জন্য প্রয়োজন টেকসই পদ্ধতিতে সম্পদ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন, পণ্য উন্নয়ন, মান নিয়ন্ত্রণ ও বাজারজাতকরণ এবং মান সম্পন্ন গবেষণা পরিচালন। আমাদের সব দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় এই সম্পদ আহরণের কথা কিছু কিছু উল্লেখ করা আছে। এমনকি ২০২০ সালের জাতীয় খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নীতিতেও সামদ্রিক মৎস্য ও জলজ চাষ এবং তার কৌশল ও ব্যবস্থাপনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে; বলা হয়েছে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগের কথা। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেতাবে যাই থাকুক কাজীর গোয়ালে কিছু দেখা যাচ্ছে না। এটা অনতিবিলম্বে শুরু করা দরকার। আর প্রতিযোগিতা আনতে বেসরকারি খাতকেও এখানে প্রবেশাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।
তবে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মানুষের আয় ও দক্ষতা বাড়ানো এবং অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনার কোনো বিকল্প নেই। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন দুর্ভিক্ষের ওপর লেখা তার বিখ্যাত চড়াবৎঃু ধহফ ঋধসরহব গ্রন্থে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য মানুষের খাদ্যপ্রাপ্তির সক্ষমতার ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। অর্থনীতিতে বৈচিত্র্যপূর্ণ কর্মকাণ্ড থাকলে এবং মানুষকে নানাবিধ বৃত্তিতে দক্ষ ও পুনঃদক্ষ করে তুলতে পারলে খাদ্য নিরাপত্তা সহজ ও টেকসই হয়ে যায়। পৃথিবীর অনেক দেশ প্রয়োজনের তুলনায় কম খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন করে, অথচ তারা খাদ্য নিরাপদ উন্নত রাষ্ট্র; যেমন জাপান, ইংল্যান্ড ও সিঙ্গাপুর। এমনকি আমাদের প্রতিবেশী সাগরকন্যা মালদ্বীপও প্রয়োজনীয় খাদ্য উৎপাদন না করেও সার্কভুক্ত দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মাথাপিছু আয় ও খাদ্য নিরাপদ দেশ। সেবা ও পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ এবং মানের নির্ভরযোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়ে রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণের মাধ্যমে এটা করা সম্ভব; এজন্য সব ডিম এক ঝুড়িতে রাখার নীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। কিন্তু দেশের অবস্থান ঊপড়হড়সরপ ঈড়সঢ়ষবীরঃু ওহফবী অনুযায়ী বলা চলে তলানিতে; ১৩২ দেশের মধ্যে ১০৮। এই খাতে বিনিয়োগ ও গবেষণা ব্যাপকভাবে বাড়াতে হবে।
লেখক খাদ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক
rulhanpasha@gmail.com