টাইব্রেকারের সার্কাস

চলতি ফেডারেশন কাপ শেষ পর্যন্ত শেষ হবে কি না কে জানে! নয়তো যে অদ্ভুত আর হাস্যকর ঘটনা তৈরি হচ্ছে একের পর এক তাতে এই আসরের ভাগ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেছে। দল না খেলায় ম্যাচহীন আসর শুরুর ঘটনা তো ঘটেছেই। এবার বাফুফের সিদ্ধান্তহীনতায় ঘুমিয়ে যাওয়া ফুটবলারকে নামানো হলো টাইব্রেকারে। অবশ্য ওই গোলরক্ষক শেষ পর্যন্ত সফলও হয়েছেন।

ঘটনা কালকের মোহামেডান-স্বাধীনতা এফসির ম্যাচের। এই গ্রুপের অন্য দল বসুন্ধরা কিংস। তারা না খেলায় স্বাধীনতা পেয়ে গেছে ৩ পয়েন্ট। গতকাল টুর্নামেন্টে প্রথমবার খেলতে নেমে স্বাধীনতার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করা মোহামেডানও কিংসের বিপক্ষে ৩ পয়েন্ট পাওয়া নিশ্চিত। তাতে স্বাধীনতা ও মোহামেডানের পয়েন্ট দাঁড়ায় ৪। এমন অবস্থায় গ্রুপ সেরা কে হবে? সেই সিদ্ধান্ত আগে থেকে নেননি এই টুর্নামেন্টের আয়োজকরা।

ম্যাচ ড্র হওয়ার আধ ঘণ্টা পর কমলাপুর স্টেডিয়ামে ছেড়ে চলে যাচ্ছিল দুদলই। টিম বাসের অপেক্ষায়। মোহামেডান গোলরক্ষক মোহাম্মদ সুজন তো বাসে উঠে ঘুমিয়েও পড়েন। স্টেডিয়ামের ফ্লাডলাইটও নিভে যায়। এমন সময় রেফারিরা তাদের জানান আবার মাঠে ফিরতে হবে, গ্রুপ সেরা নির্ধারণীর জন্য দুই দলের মধ্যে হবে টাইব্রেকার। কারণ দুই দলের পয়েন্ট, গোলসংখ্যা এবং কার্ড সংখ্যা (দুটি করে) সব সমান। তাই ম্যাচের আগে একপ্রস্ত গা গরমের পর দ্বিতীয়বার গা গরম করে ভাগ্যনির্ধারণীতে নামে দুই দল। প্রশ্ন থাকছে- এ সিদ্ধান্তই ম্যাচের শুরুতে নিয়ে রাখেনি কেন আয়োজকরা?

ওই টাইব্রেকারে মোহামেডান ৪-৩ গোলে জিতে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে। গ্রুপ রানার্সআপ হওয়া স্বাধীনতা এফসির সেলিম রেজা ও সজল ইসলাম সেট পিস মিস করায় ঘুম থেকে জাগা সুজনের কাজ সহজ করে দেন। মোহামেডানের হয়ে গোল মিস করেন এরন জন বেয়ারডন। নির্ধারিত সময়ে ৩৯ মিনিটে সুলেমান দিয়াবাতের গোলে এগিয়ে যায় মোহামেডান। মিনিট পরেই বসনিয়ান নেদো তুর্কোভিচের গোলে সমতায় আসে স্বাধীনতা।