বিশ্বব্যাপী যেখানে মুক্তি সংগ্রাম সেখানেই অনুপ্রেরণা বঙ্গবন্ধু: প্রধান বিচারপতি

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, ‘মহাবিজয়ের মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন এমন এক মহান ব্যক্তিত্ব যাকে কোনো বিশেষণে বিশেষায়িত করে শেষ করা যাবে না। আজ বিশ্বব্যাপী যেখানেই মুক্তির  সংগ্রাম, সেখানেই অনুপ্রেরণা বঙ্গবন্ধু।’ 

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক জাতির পিতার জীবনে আইন, মামলা ও বিচার কার্যক্রমভিত্তিক প্রকাশিত মুজিববর্ষ স্মারক প্রকাশনা ‘বঙ্গবন্ধু ও বিচার বিভাগ’ এবং মুজিববর্ষ স্মরণিকা ‘ন্যায় কণ্ঠ’ এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে এসব বলেন প্রধান বিচারপতি। 

মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট জাজেস স্পোর্টস কমপ্লেক্সে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

বিশেষ অতিথি হিসেবে ভিডিও কনফারেন্সে বক্তব্য দেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান। 

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘স্বাধীনতা সংগ্রাম’, ‘জয় বাংলা’, ‘মুক্তির সংগ্রাম’, ‘মুক্তির সংগ্রাম’, ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদ’, ‘বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ-ছয় দফা আন্দোলন’, ‘বাঙালির স্বাধিকার’, ‘বাঙালির স্বাধীনতা’- যাই বলি না কেন এ শব্দগুলোর অপর নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আজ বিশ্বব্যাপী যেখানেই মুক্তির সংগ্রাম, সেখানেই বঙ্গবন্ধু। তাই বলা যায়, এ মহান নেতা আমাদের জাতীয় জীবনে এক জ্যোতির্ময় আলোকবর্তিতা। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর জীবনের মূল্যবান সময়ের অনেকটাই কেটেছে কারার অন্ধকার প্রকোষ্ঠে। আইন- আদালত, কোর্ট- কাচারি, মামলা- মোকদ্দমা এসব তার জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে মিশে গিয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর জীবনে মামলা, আদালত, নির্যাতনমূলক গ্রেপ্তার তথা পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক আরোপিত আইনি অভিঘাতের ওপর বিশ্লেষণী উল্লেখযোগ্য আলাদা কোনো সংকলনবদ্ধ প্রকাশনা ছিল না। এ গ্রন্থ সেই শূণ্যতা কিছুটা হলেও দূর করতে সক্ষম হবে।’ 

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘মুজিববর্ষ স্মারকগ্রন্থ এবং মুজিববর্ষ স্মরনিকা সুুপ্রিম কোর্টের উল্লেখযোগ্য প্রকাশনা হিসেবে বিবেচিত হবে। নিঃসন্দেহে এটি আমার জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হয়ে থাকবে।’ 

তিনি বলেন, স্মারকগ্রন্থে বঙ্গবন্ধুর বহুমাত্রিক ঘটনাবহুল জীবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উচ্চ আদালতের মোট নয়টি রায় বাংলায় অনূদিত হয়েছে। 

করোনাকালে ভার্চুয়াল আদালত চালু করতে আদালত কর্তৃক তথ্য- প্রযুক্তি ব্যবহার আইন, ২০২০ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ উদ্যোগ এবং সর্বোচ্চ আন্তরিকতার প্রশংসা করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে ভার্চুয়ালি মামলা নিষ্পত্তির বিষয়টি তুলে ধরে প্রধান বিচারপতি। 

তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি ভার্চুয়াল ও শারীরিক উপস্থিতির মাধ্যমে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব।