নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে চলমান সংলাপে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনসহ তিন দফা প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ)।
বঙ্গভবনে চলমান সংলাপের সপ্তম দিনে বুধবার বিকেলে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে আলোচনাকালে বিএনএফ এই তিন দফা প্রস্তাব দেয়। সংলাপ শেষে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদীন সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
প্রেস সচিব জয়নাল আবেদীন জানান, বিএনএফের প্রেসিডেন্ট এসএম আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বঙ্গভবনের দরবার হলে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেয়।
তিনি জানান, বিএনএফের নেতৃবৃন্দ সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের প্রস্তাব দেন। তারা নির্বাচন কমিশন গঠনে অনুসন্ধান (সার্চ) কমিটি মাধ্যমে গঠনের প্রস্তাব করেন। এবং ওই কমিটিতে অনধিক পাঁচজনকে নিয়োগের কথা উল্লেখ করে তারা পাঁচজনের নামও প্রস্তাব করেন।
বিএনএফ প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশন গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনার উদ্যোগ নেয়ার জন্য রাষ্ট্রপতিকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।
প্রতিনিধি দলকে বঙ্গভবনে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন কমিশন যাতে গঠন করা যায় সে জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সুচিন্তিত মতামত খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, গণতন্ত্রের স্বার্থে রাজনীতিতে আর্থিক বিষয়কে প্রাধান্য না দিয়ে নেতাকর্মীদের ত্যাগ-তিতিক্ষা এবং দলের নীতি-আদর্শকে মূল্যায়ন করতে হবে। গণতন্ত্রকে কেবল নির্বাচনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রতিনিয়ত চর্চার মাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে হবে।
রাষ্ট্রপতি এ ব্যাপারে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে রাজনৈতিক দলগুলোকে উদ্যোগ নেওয়ার ও আহ্বান জানান।
এ সময় রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদীনসহ আরও উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়ুয়া, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম সালাহ উদ্দিন ইসলাম এবং সচিব (সংযুক্ত) মো. ওয়াহিদুল ইসলাম খান।
এ পর্যন্ত মোট সাতটি রাজনৈতিক দলের সাথে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। গত ২০ ডিসেম্বর প্রথম দিনে সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সাথে সংলাপে বসেন রাষ্ট্রপতি হামিদ।
আগামী ২ জানুয়ারি সন্ধ্যা ছয়টায় গণফোরাম এবং সন্ধ্যা সাতটায় বিকল্প ধারা বাংলাদেশ, ৩ জানুয়ারি সন্ধ্যা ছয়টায় গণতন্ত্রী পার্টি এবং সন্ধ্যা সাতটায় বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে সংলাপে অংশ নেবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।
অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনার তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি।
এর আগে নবম, দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখেও রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
রাষ্ট্রপতিকে সিইসি এবং অনধিক চারজন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। গত কয়েকটি মেয়াদে রাষ্ট্রপতি 'সার্চ কমিটি'র সুপারিশের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন।
বর্তমান ইসির পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি। এ সময়ের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি নতুন কমিশন গঠন করবেন, যাদের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
সূত্র: বাসস।