পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনকে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) দেয়া নাগরিক সংবর্ধনা বর্জন করেছেন জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ ৪ নেতা।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের জন্য গৌরব বয়ে আনা, ঢাকা-সিলেট ৬ লেন মহাসড়ক ও সিলেট মহানগরের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে বিশেষ অবদানের জন্য বুধবার নগরের রেজিস্টারি মাঠে বুধবার মন্ত্রীকে এই সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল।
বিএনপি দলীয় মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী কিছুদিন আগে আওয়ামী লীগকে কটাক্ষ করে বক্তব্য দিয়েছেন অভিযোগ তুলে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ ৪ নেতা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেননি।
তারা হলেন- সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন খান, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ, সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন।
তবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলসহ সিলেট আওয়ামী লীগ এবং তার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
নাগরিক সংবর্ধনার জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, আমরা সবাই সিলেটের এটাই মূল বিষয়। সিলেটের উন্নয়নের স্বার্থে সবাইকে দল-মত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
ড. মোমেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেটের প্রতি খুব সদয়। সিলেটের উন্নয়নে বরাদ্দ দিতে তিনি দ্বিধা করেন না। না চাইতেও প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে অনেক কিছু পাচ্ছে সিলেট। সিলেট নগরের উন্নয়নে ১২২৮ কোটি টাকা দিয়েছে সরকার। সিলেটের যোগাযোগ ব্যবস্থা-রাস্তাঘাট উন্নত হচ্ছে, এয়ারপোর্ট অত্যাধুনিক হচ্ছে, স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক উন্নয়ন হচ্ছে। শিক্ষা খাতে উন্নয়নের ক্ষেত্রে বৃহত্তর সিলেটের প্রত্যেকটি কলেজে বিশেষ অনুদান দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে মডেল সিলেট গড়ে তোলা হচ্ছে। সিলেট থেকে আখাউড়া পর্যন্ত উন্নত রেললাইন করার জন্য দেন-দরবার চলছে। ১৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ওই রুটে ডুয়েলগেজ লাইন হবে। আশা করছি হয়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন। এছাড়াও সিলেট থেকে আসাম-মিয়ানমার-থাইল্যান্ড পর্যন্ত সড়ক হওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। এসব উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমার কাছে কেউ কেউ বলেন যে, মেয়র অন্য দলের। সুতরাং আপনি উনার অনেক প্রস্তাব গ্রহণ করবেন না। আমি বলি- সিলেট তো আমারও। মেয়র সাহেবরও। সুতরাং বৃহত্তর সিলেটের মঙ্গলের জন্য সব করতে হবে। টাকা শুধু পাইলেই হয় না, টাকা কাজে লাগাতে হয়। টাকা আগেও দিয়েছিলেন আমাদের অর্থমন্ত্রী। কিন্তু ফেরত গেছে। বর্তমান সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলররা টাকা কাজে লাগাচ্ছে, যার ফলে সিলেটের উন্নয়ন হচ্ছে।’
ড. মোমেন আরও বলেন, ‘আমাকে কেউ কেউ বলেছেন আজকের আয়োজন আরিফ করেছেন। আমি বলেছি আরিফ সাহেব করে নাই, করেছে সিটি করপোরেশন। বরং আপনাদের লজ্জা লাগা উচিত এই কারণে যে প্রধানমন্ত্রী যে এত ভালো কাজ করছেন, অন্য দলের একজন লোক সেটি স্বীকার করছে। আপনাদের তো ভালো লাগার কথা। আমি তো হলাম উসিলা মাত্র। তারা আমাকে নয়, সম্মান দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীকে। যিনি আমাদের প্রতি সদয় হয়ে এত কিছু করছেন। সুতরাং সিলেটের উন্নয়নে সবাই মিলেমিশে কাজ করতে হবে।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিরলসভাবে কাজ করে, দেশকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘সম্মান দিলে সম্মান পাওয়া যায়। পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সংবর্ধনার আয়োজন করায় সিলেট সিটি করপোরেশনকে ধন্যবাদ।’
অনুষ্ঠানে সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘মহানগরবাসীর পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন এমপিকে নাগরিক সংবর্ধনা দিতে পারায় আমরা গৌরবান্বিত। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সহযোগিতায় সিলেট নগরের অভূতপূর্ব উন্নয়ন হচ্ছে। সিলেট নগরের চলমান উন্নয়নকাজ দ্রুততম সময়ের মধ্যেই শেষ হবে। এছাড়া প্রস্তাবিত আরও ৯টি প্রকল্প পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সহযোগিতায় অচিরেই অনুমোদিত হবে বলেই প্রত্যাশা করি। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে সিলেট একটি আধুনিক নগরের পরিণত হবে।’
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল হক, সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি তাহমিন আহমেদ, সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এটিএম ফয়েজ, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আল আজাদ প্রমুখ।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বর্জনের প্রসঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সিসিকের বিএনপি দলীয় মেয়র আরিফ কিছুদিন আগে আওয়ামী লীগকে অশালীন ভাষায় কটূক্তি করেছেন। আমরা তার এই বক্তব্য প্রত্যাহার ও ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি সেটি করেননি। তাই আরিফের অনুষ্ঠান আমরা বর্জন করেছি।’