২০২১ সালের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিবিদদের তালিকায় প্রবেশ করেছেন আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাবিষয়ক বৈশ্বিক অলাভজনক সংস্থা অর্গানাইজড ক্রাইম অ্যান্ড করাপশন রিপোর্টিং প্রজেক্ট (ওসিসিপিআর) সম্প্রতি এ তালিকা প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।
তালিকায় শীর্ষে আছেন বেলারুশের বর্তমান প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্দর লুকাশেঙ্কো। এছাড়া আরও রয়েছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান এবং অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর সেবাস্টিয়ান কুর্জ।
গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, ‘নিজ দেশের জনগণকে দুর্দশা ও মৃত্যুর মুখে ফেলে পিঠটান দেওয়ার জন্যই আশরাফ ঘানিকে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিবিদের স্বীকৃতি দিচ্ছে ওসিসিপিআর।’ ওসিসিপিআরের পরিচালক ড্রিউ সুলিভান এ সম্পর্কে বলেন, ‘একজন সত্যিকারের দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিবিদ হওয়ার জন্য যেসব বৈশিষ্ট্য থাকা প্রয়োজন, তার সবই ঘানির আছে। তার দুর্নীতি ও অদক্ষতা সীমাহীন। তিনি নিজ দেশের জনগণকে ত্যাগ করেছেন, তাদের ভয়াবহ বিপর্যয় ও মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছেন শুধু এ কারণে, যেন তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিজ প্রশাসনের দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তার সঙ্গে আরামপ্রদ জীবনযাপন করতে পারেন।’
তালিকায় শীর্ষে থাকা লুকাশেঙ্কো সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘৬৭ বছর বয়সী এই প্রেসিডেন্ট ১৯৯৩ সাল থেকে বেলারুশের ক্ষমতায় আছেন এবং নির্বাচনে কারচুপি, সমালোচকদের নিপীড়ন, বিক্ষোভকারীদের গ্রেপ্তার ও প্রহারসহ ক্ষমতায় থাকার জন্য যা যা করা দরকার, সবই তিনি করে যাচ্ছেন। এখনো যে তিনি ক্ষমতায় টিকে আছেন, তার প্রধান কারণ ক্রেমলিনের (রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের দপ্তর) আশীর্বাদ তার সঙ্গে আছে।’
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ সম্পর্কে বলা হয়েছে, সিরিয়াকে তিনি ধ্বংসাত্মক গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছেন এবং ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে কোটি কোটি ডলার চুরি করেছেন। এরদোয়ানকে এ তালিকায় রাখার কারণ হলো মুদ্রা পাচারের অভিযোগ। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় তহবিল তছরুপের অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া অস্ট্রিয়ার ক্ষমতাসীন দল অস্ট্রিয়ান পিপলস পার্টির (ওভিপি) নেতা সেবাস্টিয়ান কুর্জের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে।