প্রকাশ্যে ইংরেজি বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে ডিএমপির নিষেধাজ্ঞা: ১২ নির্দেশনা

ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে ‘থার্টি ফাস্ট’ উদ্‌যাপন করা যাবে। তবে উন্মুক্ত স্থানে কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যাবে না বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

বৃহস্পতিবার ডিএমপির কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উৎসব উদ্‌যাপনের নামে কিছু উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি নিজস্ব সংস্কৃতি, মূল্যবোধ ঐতিহ্য বিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়ে থাকে। কতিপয় ব্যক্তি আনন্দের আতিশয্যে পট্কাবাজি, আতশবাজি, অশোভন আচরণ, বেপরোয়া গাড়ি ও মোটরসাইকেল চালানোর মাধ্যমে রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা/দুর্ঘটনা ঘটিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটায়। ইংরেজি নববর্ষ উদযাপনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির যেকোনো আশঙ্কা রোধকল্পে ডিএমপি বদ্ধপরিকর।

বিজ্ঞপ্তিতে আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখ রাতে পট্কাবাজি, আতশবাজি, বেপরোয়া গাড়ি ও মোটরসাইকেল চালনাসহ যেকোনো ধরনের অশোভন আচরণ এবং বেআইনি কার্যকলাপ হতে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ করা হয়।

ডিএমপির নির্দেশনাসমূহ

১. ঢাকা মহানগরের রাস্তার মোড়, ফ্লাইওভার, রাস্তায় এবং প্রকাশ্যে স্থানে কোনো ধরনের জমায়েত/সমাবেশ/উৎসব করা যাবে না।

২. উন্মুক্ত স্থানে কোনো ধরনের অনুষ্ঠান, সমাবেশ, নাচ, গান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা যাবে না।

৩. কোথাও কোনো ধরনের আতশবাজি/পটকা ফোটানো যাবে না।

৪. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সন্ধ্যা ৬ টার পরে বহিরাগত কোনো ব্যক্তি বা যানবাহন প্রবেশ করতে পারবে না। শুধুমাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকারযুক্ত যানবাহন পরিচয় প্রদান সাপেক্ষে প্রবেশ করতে পারবে।

৫. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বসবাসরত শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা/কর্মচারীদের রাত ৮টার মধ্যে স্ব-স্ব এলাকায় প্রত্যাবর্তন করতে হবে। এর পরে প্রবেশের ক্ষেত্রে কর্তব্যরত পুলিশকে পরিচয়পত্র প্রদর্শন করতে হবে।

৬. গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকায় রাত ৮ টার পর বহিরাগতরা প্রবেশ করতে পারবে না। তবে উক্ত এলাকায় বসবাসরত সম্মানিত নাগরিকেরা নির্ধারিত সময়ের পর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ (কাকলি ক্রসিং) এবং মহাখালী আমতলী ক্রসিং দিয়ে পরিচয় প্রদান সাপেক্ষে প্রবেশ করতে পারবে।

৭. হাতিরঝিল এলাকায় সন্ধ্যা ৬ টার পর থেকে কোনো সমাবেশ/অনুষ্ঠান করা যাবে না। যানবাহন থামিয়ে অথবা পার্কিং করে কেউ অবস্থান করতে পারবে না।

৮. গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকায় বসবাসরত নাগরিকদের রাত ৮ টার মধ্যে স্ব-স্ব এলাকায় প্রত্যাবর্তন করতে হবে।

৯. ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬ টার পর ঢাকা মহানগরীর কোনো বার খোলা রাখা যাবে না।

১০. সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সীমিত আকারে আবাসিক হোটেলগুলোতে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠান করতে পারবে।

১১. ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেল, রেস্তোরাঁ, জনসমাবেশ ও উৎসবস্থলে কোনো প্রকার লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র বহন করা যাবে না।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ উপর্যুক্ত নির্দেশনাপালনে ব্যর্থ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

ট্রাফিক ডাইভার্শন ও পরামর্শ

১. ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা হতে পরদিন ভোর ৫টা পর্যন্ত গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকায় যানবাহনযোগে প্রবেশের জন্য কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ (কাকলি ক্রসিং) এবং মহাখালী আমতলী ক্রসিং ব্যবহার করা যাবে।

২. রাত ৮টা হতে গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকায় প্রবেশের ক্ষেত্রে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকা-ফিনিক্স রোড ক্রসিং, বনানী ১১ নম্বর রোড ক্রসিং, চেয়ারম্যান বাড়ি ক্রসিং, ঢাকা গেট, শুটিং ক্লাব, বাড্ডা লিংক রোড, ডিওএইচএস বারিধারা-ইউনাইটেড হাসপাতাল ক্রসিং ও নতুন বাজার ক্রসিং উক্ত এলাকাসমূহে প্রবেশের জন্য ব্যবহার করা যাবে না, তবে উক্ত এলাকা থেকে বের হওয়ার ক্ষেত্রে এসব ক্রসিং ব্যবহার করা যাবে।

৩. ওইদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রবেশের ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা/কর্মচারী ব্যতীত অন্য যেকোনো ব্যক্তি/যানবাহন কেবলমাত্র পুরোনো হাইকোর্ট-দোয়েল চত্বর-শহীদ মিনার-জগন্নাথ হলের দক্ষিণ গেট-পলাশী মোড় দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে। উক্ত এলাকায় প্রবেশের ক্ষেত্রে অন্য সকল ক্রসিং বন্ধ থাকবে।

৪। রাত ৮টা হতে শাহবাগ, নীলক্ষেত ক্রসিং, দোয়েল চত্বর ক্রসিং, বকশি বাজার ক্রসিং, পলাশী ক্রসিং এবং চানখাঁরপুল/শহিদুল্লাহ হল ক্রসিং দিয়ে কোনো প্রকার যানবাহন প্রবেশ করবে না।

৫. কেউ বেপরোয়া, মদ্যপ ও বিপজ্জনক অবস্থায় গাড়ি চালালে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।