চলতি বছর হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির ও পূজা মণ্ডপে হামলার ঘটনা সাম্প্রতিক অতীতকে ছাড়িয়ে গেছে।
বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তী পালনের বছর ২০২১ সালে তাই আলোচিত ঘটনা হয়ে ওঠে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা।
এ বছরের ১৩ থেকে ২০ অক্টোবরের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় নয়জন নিহত ও কমপক্ষে দুই শতাধিক আহত হয়েছেন। নিহত ৯ জনের মধ্যে ৬ জন মুসলমান ও ৩ জন হিন্দু ধর্মাবলম্বী।
শারদীয় দুর্গাপূজার অষ্টমীর দিন ১৩ অক্টোবর কুমিল্লায় একটি মণ্ডপে প্রতিমার কোলে মুসলমানদের ধর্মগ্রন্থ কোরআন শরিফ পাওয়ার পর হামলার শুরু হয়।
এরপর কয়েকদিনে চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীর বিভিন্ন জায়গায় মণ্ডপ ও মন্দিরে হামলা হয়। তারপর ১৭ অক্টোবর রাতে রংপুরের পীরগঞ্জের জেলেপল্লীতে আগুন দেওয়া হয়, পুড়ে যায় ২৯টি বাড়ি।
বেসরকারি সংস্থা মানবাধিকার সংস্কৃতি ফোরামের (এমএসএফ) তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবর মাসে দেশের ১৯ জেলার পূজামণ্ডপ ও মন্দিরে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগসহ সহিংসতার ৫৩টি ঘটনা ঘটে।
হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের দাবি, দুর্গাপূজার মধ্যে তিন দিনেই ৭০টি পূজামণ্ডপে হামলা-ভাংচুর-লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ হয়।
ঐক্য পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, সেদিনই কুমিল্লায় ১৭টি মণ্ডপে হামলা হয়। একই দিনে হামলা হয় পাশের জেলা চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের আরও ১৪টি মণ্ডপে।
পুলিশ সদর দপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লা এবং তার পরের কয়েকদিনের ঘটনায় ১১ নভেম্বর পর্যন্ত সারাদেশের ৩৫ জেলায় মোট ১৪২ মামলা হয়। এসব মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছে ১ হাজার ১৩৬ জন।
তবে কোনো মামলায়ই এখনও অভিযোগপত্র দেওয়া হয়নি বলে জানান বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত।