নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের ডাকা সংলাপে অংশ না নিতে ড. কামাল হোসেনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন মোস্তফা মহসিন মন্টু ও অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন গণফোরামের একাংশ।
শনিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অনুরোধ জানান তারা।
নতুন ইসি গঠনে রাষ্ট্রপতি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করছেন। তবে বিএনপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল তা বর্জন করছে।
ইসিতে নিবন্ধিত দল হিসেবে গণফোরামও সেই সংলাপের আমন্ত্রণ পেয়েছে। রবিবার তাদের বঙ্গভবনে যেতে চিঠি দেওয়া হয়েছে। দলটিতে ভাঙনের ফলে মন্টুর নেতৃত্বাধীন অংশের নিবন্ধন নেই।
সংবাদ সম্মেলনে মন্টু বলেন, ‘ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হয়েছে। আমরা তাকে এই সংলাপে না যেতে অনুরোধ করেছি। আমরা তার বরাবর একটি চিঠিও দিয়েছি।’
‘সেই চিঠিতে গণফোরামের ঐতিহ্য এবং সুনাম অক্ষুন্ন রাখার স্বার্থে ড. কামাল হোসেনকে এবং গণফোরামের পক্ষে এই সংলাপে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকার জন্য সবিনয়ে অনুরোধ জানিয়েছি’ বলেন তিনি।
চিঠিতে কামাল হোসেনকে গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে সম্বোধন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে চিঠিটি পড়ে শোনান গণফোরামের এই অংশের সাধারণ সম্পাদক সুব্রত চৌধুরী।
চিঠিতে বলা হয়, ‘এদেশের মানুষ বিশ্বাস করে, রাষ্ট্রপতির এই সংলাপ কার্যত একটি নাটকীয় আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। চলমান সংলাপ দেশবাসীর কাছে পূর্বের মতোই চাতুর্য্যপূর্ণ সংলাপ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। কাজেই উক্ত সংলাপে গণফোরামের নামে অংশগ্রহণ করা অপ্রত্যাশিত এবং বর্তমান সরকারের অপশাসন ও জনগণের ভোটাধিকার হরণের রাজচালাকীর সহযোগী হিসাবে গণ্য করা হবে।’
গণফোরামের জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টভুক্ত দল বিএনপি এই সংলাপকে অর্থহীন উল্লেখ করে তাতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। গণফোরামের একাংশের নির্বাহী পরিষদের সভায় সংলাপে না যাওয়ার যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, সে বিষয়টিও চিঠিতে কামাল হোসেনকে জানানো হয়।
গত ৩ ডিসেম্বর জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে মন্টুকে সভাপতি ও সুব্রত চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক করে গণফোরামের এই অংশ নতুন কমিটি গঠন করে। সেখানে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে রাখা হয় মূল দলের সভাপতি কামাল হোসেনকে।
সংবাদ সম্মেলনে সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘২০১৪ ও ২০১৮ সংলাপে তিক্ত অভিজ্ঞতার আলোকে গণফোরাম দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, বর্তমান রাষ্ট্রপতির সঙ্গে চলমান সংলাপ একটি তামাশা মাত্র যার মাধ্যমে কোনো কাঙ্ক্ষিত নির্বাচন কমিশন গঠন করা সম্ভব নয়।’
তিনি বলেন, ‘গণফোরাম মনে করে, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের জন্য শুধু শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠন করলেই চলবে না, এর জন্য অপরিহার্য হলো জাতীয়ঐক্যমতের সরকার। সেই সরকারের অধীনেই সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে ভোটাধিকারসহ জনগণের মালিকানা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।’