ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মাদার তেরেসার নামে পরিচালিত এনজিওর ধারাবাহিকতায় দেশটির ১২ হাজার এনজিও রাতারাতি বিদেশি তহবিল গ্রহণ সংক্রান্ত লাইসেন্স হারাল বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। গতকাল শনিবার সকালে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিশ্চিত করে। লাইসেন্স নবায়ন করতে এনজিওগুলো ঠিক সময়ে আবেদন করলেও কর্র্তৃপক্ষ সেগুলো নবায়ন না করাতেই এমন জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ছয় হাজারের বেশি এনজিও ও বিভিন্ন সংস্থা বিদেশি তহবিল সংক্রান্ত লাইসেন্স নবায়নের জন্য আবেদন করেনি। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এনডিটিভিকে জানান, ওই এনজিওগুলোকে লাইসেন্স নবায়নের জন্য নির্ধারিত সময়ের আগেই নোটিস পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলো আবেদন না করায় তাদের লাইসেন্স বাতিল হয়ে যায়।
অনুদান সংক্রান্ত লাইসেন্স বাতিল হওয়া এনজিওদের তালিকায় অক্সফাম ইন্ডিয়া ট্রাস্ট, জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া, দ্য ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন এবং লেপ্রোসি মিশনের মতো উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান রয়েছে। গত কয়েক মাস আগেই প্রতিষ্ঠানগুলোও লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এই তালিকায় আছে টিউবারকুলোসিস অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া, দ্য ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল সেন্টার ফর আর্টস এবং ইন্ডিয়া ইসলামিক কালচারাল সেন্টারের মতো শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলো।
ভারতে বর্তমানে ১৬ হাজার ৮২৯টি এনজিও রয়েছে যাদের এফসিআরএ (ফরেন কন্ট্রিবিউশন রেগ্যুলেশন অ্যাক্ট) লাইসেন্স রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্সের মেয়াদ আছে ৩১ মার্চ ২০২২ সাল পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে এনজিওগুলোকে তাদের লাইসেন্স নবায়নের জন্য আবেদন করতে হবে। এফসিআরএ আইনের অধীনে ভারতে ২২ হাজার ৭৬২টি এনজিও নথিভুক্ত বলে জানিয়েছে পিটিআই। বিদেশি অনুদান গ্রহণ করতে হলে এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবশ্যই এফসিআরএ লাইসেন্স নিতে হবে।
এনজিওদের এই লাইসেন্স সংক্রান্ত জটিলতার শুরু মিশনারিদের পরিচালিত একাধিক চ্যারিটি সংস্থাকে কেন্দ্র করে। এই মিশনগুলো অনাথ ও বাস্তুহারা শিশুদের আবাসনের ব্যবস্থা করে দেয়। বিদেশি সহায়তা ছাড়া এই কাজ তারা চালাতে পারে না। কয়েক সপ্তাহ আগে গুজরাটে পুলিশের কাছে মিশনারিস অব চ্যারিটির প্রধানের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ ওঠে। সেখানে বলা মিশন থেকে তরুণীদের খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানায়, তাদের কাছেও এমন একাধিক অভিযোগ এসেছে আগেও।