জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে চমক আসছে বলে জানালেন দলটির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত এইচ এম এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা। তিনি নিজেকে জাতীয় পার্টির পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেও দাবি করেন।
জাতীয় পার্টির ৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার সকালে বারিধারায় এরশাদের বাড়ি প্রেসিডেন্ট পার্কে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে ছেলে এরিক এরশাদকে পাশে নিয়ে বিদিশা এসব কথা বলেন।
বিদিশা বলেন, ‘আর মাত্র কয়েক মাস পরেই এরিকের বয়স ২১ হবে। অপেক্ষা করুন। চমকের পর চমক আসবে সামনে।’
জি এম কাদেরের সমালোনা করে বিদিশা বলেন, ‘আপনারা জানেন রওশন এরশাদ খুব অসুস্থ। তিনি ব্যাংককে আছেন। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, এরই মধ্যে জাতীয় পার্টির যে চেয়ারম্যান আছেন, তিনি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর পোস্টার থেকে রওশন এরশাদের ছবি মুছে ফেলেছেন। এই অমানবিক কাজটা আসলে তাকেই মানায়।’
জাতীয় পার্টির নেতাদের কেউ কেউ পদ-পদবি বিক্রি করে বিদেশে গাড়ি-বাড়ি করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এরশাদের ছেলে রাহগীর আল মাহি সাদ (সাদ এরশাদ) ও এরিকই আগামী দিনে লাঙ্গলের (দলীয় প্রতীক) ধারক ও বাহক হবে দাবি করে বিদিশা বলেন, পিতার চেয়ারে শুধু ছেলেদেরই শোভা পায়। একমাত্র ছেলেরাই পারে বাবার মান রক্ষা করতে, অন্য কেউ নয়।
উল্লেখ্য, এরশাদ-রওশনের ছেলে রাহগীর আল মাহি সাদ বর্তমানে রংপুরে সদর আসনে জাতীয় পার্টির সাংসদ।
বিদিশা বলেন, ‘ভুলে গেলে চলবে না, এরশাদ সাহেব সেনা পরিবারের একজন সদস্য ছিলেন। তিনি ছিলেন সেনাবাহিনীর প্রধান। এরিক আজ একা না। এরিকের সঙ্গে সেনাবাহিনীর চৌকস অফিসার এবং এরশাদকে যাঁরা ভালোবাসেন, তাঁরা আছেন।’
বিদিশার দাবি, জাতীয় পার্টির পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় ইতিমধ্যে ৩০ জেলায় কমিটি গঠন হয়ে গেছে। ৬৪ জেলার কমিটি গঠন হলেই তাঁরা ঢাকায় বৃহত্তর কর্মসূচি দেবেন। ছেলে এরিককে নিয়ে দল ‘পুনর্গঠনের কাজে’ সারা দেশে যাবেন বলেও জানান বিদিশা।
এরিক এরশাদ বলেন, ‘আজ আমার বাবা নেই, কিন্তু আপনারা আছেন। আপনাদের হাত ধরেই আমি আমার লক্ষ্যে পৌঁছাব, আপনাদের কাছ থেকে আমি এতটুকুই চাই।’
আলোচনা সভায় জাতীয় পার্টির চেনাজানা কোনো নেতা ছিলেন না। তবে মঞ্চে বিদিশার সঙ্গে পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনকে দেখা যায়।
এরশাদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে গত জুলাই মাসে জাতীয় পার্টি পুনর্গঠনের ঘোষণা দেন বিদিশা।
বর্তমানে সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকায় রয়েছে জাতীয় পার্টি। দলটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও এরশাদের প্রথম স্ত্রী রওশন এরশাদ সংসদে বিরোধী দলের নেতার ভূমিকায় আছেন। অসুস্থতার কারণে তিনি এখন বিদেশে চিকিৎসাধীন।