গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে র্যাবের নির্যাতনে এক ব্যক্তির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। নিহত ব্যক্তির নাম আসাদুল ইসলাম আসাদ (৪৫)।
শনিবার রাতে মহানগরীর টঙ্গীর এরশাদনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আসাদ মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী থানার হাসাইল গ্রামের মৃত আব্দুল হাইয়ের ছেলে। তিনি এরশাদনগর ৫ নম্বর ব্লকে পরিবার নিয়ে বসবাস করে স্থানীয় একটি গাড়ির গ্যারেজ পরিচালনা করতেন।
এ ঘটনায় র্যাবের পক্ষ থেকে রবিবার টঙ্গী পূর্ব থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।
নিহতের স্ত্রী জেসমিন আক্তার জানান, দুপুর ১টার দিকে র্যাব পরিচয়ে ৬-৭জন ব্যক্তি এরশাদ নগর ৫ নম্বর ব্লক কবরস্থান সংলগ্ন তাদের টিনশেড বাড়িতে প্রবেশ করে। পরে মাদক আছে এমন সংবাদে পুরো বাড়িতে তল্লাশি চালায় র্যাব সদস্যরা। এর কিছুক্ষণ পর বাড়িতে র্যাবের পোশাক পরিহিত আরও একটি দল প্রবেশ করে। মাদকের তথ্য জানতে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত ঘরের ভেতর আসাদকে আটকে রেখে পিটিয়ে নির্যাতন করে। র্যাবের নির্যাতনেই তার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এ ঘটনায় স্বামীর দাফন শেষে থানায় মামলা করবেন বলেও তিনি জানান।
নিহতের কলেজ পড়ুয়া ছেলে দিহান বলেন, বাবাকে যখন মারধর করা হচ্ছিল তখন আমাকে পাশের রুমে আটকে রাখা হয়। র্যাব সদস্যরা আমাকে মেরে ফেলবে এমন হুমকি দিয়ে বাবার কাছ থেকে তথ্য জানতে চায়। কিন্তু আমার বাবা বরাবরই মাদকের সঙ্গে জড়িত না বলে র্যাব সদস্যদের জানায়। এ সময় র্যাবের সদস্যরা পাশের রুম থেকে আমাকে চিৎকার করার পরামর্শ দেয় যেন বাবা ভয়ে স্বীকারোক্তি দেয়। নির্যাতনের একপর্যায়ে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে অচেতন অবস্থায় বাবাকে র্যাবের গাড়িতে উঠিয়ে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতালে আনার পথেই বাবা মারা গেছে।
শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বদরুন্নেসা বলেন, হাসপাতালের রেজিস্ট্রার খাতায় মৃত্যুর কারণ হিসেবে irreversible cardio respiratory failure লেখা আছে।
এদিকে আসাদের মরদেহ টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে আনা হলে নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী বিক্ষোভ করে। এ সময় হাসপাতালে উপস্থিত র্যাব সদস্যরা ঘটনার বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি।
শনিবার রাত ৯টায় হাসপাতালে আসেন র্যাব-১র অধিনায়ক আব্দুল্লাহ আল মোমেন। এ সময় তিনি নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।
পরে উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি বলেন, নিহত আসাদ মাদক কারবারে জড়িত এমন খবরে র্যাব সদস্যরা তার বাড়িতে অভিযান চালায়। পরে সেখানে র্যাব সদস্যদের সঙ্গে তার ধস্তাধস্তি হয়। এ সময় দুই র্যাব সদস্য আহত হয়। আহত অবস্থায় আসাদকে হাসপাতালে নিয়ে আসার ২০মিনিট পর তিনি মারা যান।
এ ব্যাপারে মামলার সুরতহালকারী কর্মকর্তা এসআই সজল বলেন, মারা যাওয়া ব্যক্তির শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। গাজীপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামরুজ্জামানের উপস্থিতিতে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাশের সুরতহাল সম্পন্ন হয়েছে। পরে লাশের ময়নাতদন্ত শেষে তাকে পরিবারের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি (অপারেশন) রবিউল আজম জানান, নিহত আসাদুল ইসলাম আসাদের বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলা বা মাদকের অভিযোগ পাওয়া যায়নি।