দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায় ফের বাঘ বন্দী, লোকালয়ে রয়ে গেছে আরও একটি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলায় মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে লোকালয়ে ঢুকে পড়া আরও রয়েল বেঙ্গল টাইগারকে বন্দী করতে সক্ষম হয়েছেন বন বিভাগের কর্মীরা।

তবে লোকালয়ে ঢুকে পড়া আরও একটি বাঘ এখনো ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে স্থানীয়দের আতঙ্ক কাটছে না।

শনিবার দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার সুন্দরবন সংলগ্ন গোসাবার কুমিরমারি দ্বীপ থেকে কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় বাঘটিকে বন্দী করা হয়। বন দপ্তর জানায়, স্বাস্থ্যপরীক্ষার পর রবিবার বাঘটিকে জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হবে।

এর আগে, চব্বিশ পরগনা জেলার কুলতলির মেরিগঞ্জ-২ এর শেখপাড়া এলাকা লাগোয়া জঙ্গল থেকে ছয় দিনের চেষ্টায় গত ২৮ ডিসেম্বর লোকালয়ে ঢুকে পড়া একটি বাঘকে বন্দী করা হয়।

বন দপ্তর জানায়, গোসাবার কুমিরমারি দ্বীপের বাঘটিকে খুঁজে পেতে খাঁচাবন্দী করতে কুলতলির ঘটনার মতো তেমন বেগ পেতে হয়নি। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় মাত্র দুটি ঘুমপাড়ানি গুলিতে সহজেই বন্দী করা হয় কুমিরমারি দ্বীপে ঢুকে পড়া বাঘকে।

শনিবার সন্ধ্যায় কুমিরমারি দ্বীপের অফিস পাড়া এলাকায় বনকর্মী শ্যামাপদ হালদারের বাড়ির কাছে ঢুকে পড়ে বাঘটি। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান ব্যাঘ্র প্রকল্পের বাগনা রেঞ্জের বনকর্মীরা। কয়েক ঘণ্টা চেষ্টার পর নাগালের মধ্যে আসে বাঘটি। পর পর দুইটি ঘুমপাড়ানি গুলি ছোড়া হয়। এতেই নিস্তেজ হয়ে পড়লে বাঘটিকে খাঁচায় বন্দী করা হয়।

এর পর বাঘটিকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। বাঘের দেহে কোনো আঘাতে রয়েছে কি না তা দেখার জন্য স্বাস্থ্যপরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছে বন দপ্তর।

সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পের ক্ষেত্র অধিকর্তা ও সমীক্ষক তাপস দাস জানিয়েছেন, ‘স্থানীয়দের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। আপাতত বাঘটিকে বন্দী করা হয়েছে। রবিবারই বাকি পদক্ষেপ করা হবে।’

এদিকে, গত শুক্রবার ঝিলার জঙ্গল থেকে আরও একটি বাঘ গোসাবারই লাহিড়ীপুর পঞ্চায়েতের চরঘেরিতে ঢুকে পড়ে। শনিবার বাদাবন ধরে এগিয়ে গিয়ে বাঘটি সাতজেলিয়ার লোকালয়ে অবস্থান করছিল। এলাকাটি জাল দিয়ে ঘিরে বাঘটি বন্দী করতে নামেন বনকর্মীরা। তবে, রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বাঘটিকে বন্দী করা সম্ভব হয়নি।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা।