নিউজিল্যান্ডের টেস্ট স্পেশালিস্ট নিল ওয়াগনার। বুক সমান উচ্চতায় একের পর এক বাউন্সার দিয়ে কাবু করে ফেলেন ব্যাটারদের। গতির সঙ্গে তার ওই বাউন্সার নিউজিল্যান্ডের পিচে সামলাতে পারেন না কোহলি-রুটরাও। বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানদের জন্য তাকে সামলানো আরও কঠিন হওয়ার ছিল। কিন্তু সম্ভাবনা বদলে দিয়েছেন ব্যাটাররা। মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টের দ্বিতীয় দিন বাংলাদেশের হারানো ২টি উইকেটই ওয়াগনার নিলেও তাকে দুর্দান্ত সামলেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও মাহমুদুল হাসান জয়। সঙ্গে দিনের শুরুতে বোলারদের কৃতিত্বে নিউজিল্যান্ড ঘরের মাঠে বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বনিম্ন টেস্ট সংগ্রহ ৩২৮ রানে অলআউট হয়। সব মিলিয়ে পুরো দিনে বাংলাদেশ তাদের ভুগিয়েছে বলে জানান পেসার ওয়াগনার।
টেস্টে শান্ত ও জয়ের ব্যাটে দারুণ কীর্তিও গড়েছে বাংলাদেশ। শেষ ১১ টেস্টে তাদের ব্যাটে দ্বিতীয়বার কোনো সফরকারী দলের টপঅর্ডারে শতরানের জুটি এলো। এছাড়া নিউজিল্যান্ডের পিচে শুরুর ২ উইকেটে ৫০ ওভার খেলার নজিরটাও ৮ বছরে প্রথম। দিন শেষে বিসিবির ভিডিও বার্তায় শান্ত জানান বদলে যাওয়া মানসিকতায় সফল হয়েছেন তারা। পুরো ইনিংস জুড়ে নিজে ও জয় ছিলেন উইকেটে সময় কাটানোর ব্যাপারে ফোকাসড। দিন শেষে যা সুফল এনেছে দলের জন্য। অবশ্য দিনের শেষে একটি ভুল শটে নিজের আউট হওয়ায় আক্ষেপ ঝরেছে শান্তর কণ্ঠে, ‘আমার মনে হয় জয় আর সাদমান শুরুতে খুব ভালো একটা জুটি করেছে। এই কারণে আমি নামার পর আমার ব্যাটিং করাটা খুব সহজ হয়েছে। আমি ও জয় লম্বা চিন্তা করিনি। আমরা একটা একটা বল চিন্তা করেছি। একটা ওভার, একটা ঘণ্টা কীভাবে পার করব। যেরকম বল দেখব তেমনই খেলব। কোনো জোরাজুরি করার পরিকল্পনা ছিল না। আলহামদুলিল্লাহ জয় খুব ভালো ব্যাটিং করেছে। আমি যদি শেষ করে আসতে পারতাম তাহলে আমাদের দিনটা আরও ভালো হতো।’
দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে আসা স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজও কৃতিত্ব দিলেন ব্যাটসম্যানদের। জয় ও শান্তর জন্যই টেস্টে ভালো অবস্থানে আছে বাংলাদেশ। আজ ওই জুটির কারণেই ভালো করার আত্মবিশ্বাস পাবেন মিরাজরা। জয়কে নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে মনেই হয়নি মিরাজের। আর দিনের শুরুতে প্রথম দিন শরিফুলের বেঁধে দেওয়া সুর তার হয়ে কাজ করেছে বলে জানান এ স্পিনার। যে কারণে নিতে পেরেছেন তিন উইকেট। মিরাজ বলেন, ‘এই কন্ডিশনে স্পিন বল করা কঠিন ছিল। আমি পুরোটা সময় ধৈর্য রাখতে চেয়েছি। ঠিক জায়গায় বল ফেলেছি। আমাদের বোলাররা কাল ও আজ ভালো করেছে। শরিফুল টিউন সেট করে দিয়েছে। ৩ উইকেট নিয়েছে। ওর উইকেটগুলো ক্রুশিয়াল ছিল। জয় আর শান্তর জুটি খুব ভালো হয়েছে। জয়-শান্ত যে জুটি করেছে আলহামদুলিল্লাহ। আমাদের দলের জন্য খুব ভালো হয়েছে। দেখেন বেশ কিছুদিন ধরে আমাদের ওপর (টপঅর্ডার) থেকে কোনো জুটি হচ্ছিল না। এই জুটিটা আমাদের আত্মবিশ্বাস দেবে।’
নিউজিল্যান্ডের হয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসা ওয়াগনারের কাছে কন্ডিশন খুব অচেনা মনে হয়নি। এই মাঠে পাকিস্তান ও ইংল্যান্ডের সঙ্গে খেলেছেন তিনি। ওই টেস্টগুলোর মতো এবারও পিচ ঠিক ছিল বলে জানান ওয়াগনার। ব্যতিক্রম বলতে বাতাস ছিল কাল। তবুও বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানরা এতটা ভালো করবেন তা ভাবেননি ওয়াগনার। পুরোদিনে যেই পরিকল্পনাই করেছেন তা শান্ত ও জয় ভেস্তে দিয়েছেন বলে জানান। পাশাপাশি নিজেদের ভাগ্যকে সাধুবাদ দিয়েছেন ওয়াগনার। কারণ সাদমান ও শান্ত ভুল না করলে দুটি উইকেটও পাওয়া কঠিন হতো নিউজিল্যান্ডের জন্য। ওয়াগনার বলেন, ‘আজ দিনটি আমাদের পক্ষে যায়নি। আমরা সবাই আপ্রাণ চেষ্টা করেছি কিন্তু শেষ পর্যন্ত সফলতা আসেনি। দেখুন, বাংলাদেশ আমাদের ভালোই ভুগিয়েছে। পুরো
কৃতিত্বই দিতে হবে বাংলাদেশ দলকে। তারা খুব ভালো খেলেছে। আমার কাছে মনে হয় তারা খুব ভালো ব্যাটিং করেছে, অনেক ধৈর্য ধরে ব্যাটিং করেছে। যখনই আমরা উইকেটের খোঁজে বোলিং করেছি, চাপে ফেলার চেষ্টা করেছি সেই পরিকল্পনাগুলো তারা ভেস্তে দিয়েছে। উল্টো তারা আমাদের চাপে রেখেছে, আরও বেশি ভালো বল করতে বাধ্য করেছে। আগামীকাল আমাদের প্রথম লক্ষ্য থাকবে জুটি বেঁধে বোলিং করা, তাদের চাপে ফেলা এবং দ্রুত উইকেট তুলে নেওয়া। এখনো খেলার অনেক অংশ বাকি। উইকেটে ফাটল ধরবে, স্পিনাররাও সুবিধা পাবে।’