চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এস আলম কটেজ থেকে অনিক চাকমা নামে এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার বেলা দেড়টায় পুলিশ ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা কক্ষের দরজা ভেঙে তার লাশ উদ্ধার করেন।
চবি মেডিকেল সেন্টারের চিফ আবু তৈয়ব দেশ রূপান্তর’কে বলেন, ‘ঝুলন্ত অবস্থায় অনিকের মরদেহ আমরা পেয়েছি। শেষ রাতের দিকে সে আত্মহত্যা করেছে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি।’
অনিক পারিবারিকভাবে আর্থিক অসচ্ছল হওয়ায় বিষণ্নতায় ভুগছিলেন বলে জানিয়েছেন তার সহপাঠীরা।
আগামী ১৬ জানুয়ারি থেকে তার দ্বিতীয় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল।
এস আলম কটেজের মালিক মো. শাহ আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ২০১৮ সাল থেকে অনিক এ কটেজে অবস্থান করছে। গতকাল (রবিবার) সন্ধ্যায় আমার সঙ্গে অনিকের কথা হয়। সে আমার সঙ্গে হাসি মুখে কথা বলেছে। কোনো অস্বাভাবিক আচরণ দেখিনি।
কটেজের বাসিন্দা রিপন চাকমা দেশ রূপান্তরকে বলেন, অনিক সব সময় একা একা থাকতো। কারও সাথে বেশি কথাও বলতো না। পারিবারিকভাবে আর্থিক সমস্যায় ছিল সে। প্রতিদিন সকাল ৮-৯টার দিকে ঘুম থেকে উঠলেও আজ না ওঠায় সাড়ে দশটার দিকে আমরা তাকে ডাকাডাকি করেও কোন সাড়া পাইনি। দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। পরে জালানার ফাঁক দিয়ে দেখার পর একজন স্যারকে জানাই। তিনি প্রক্টর অফিসে খবর দেন।
কটেজের আরেক বাসিন্দা প্লাবন চাকমা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরার সঙ্গে তার প্রতিদিনই কথা হতো। গতকাল সন্ধ্যায় কথা হয়েছিল। সে অনেক আর্থিক সমস্যায় ছিল। হলেও ডাইনিং এ খাওয়া-দাওয়া করার জন্যও তার টাকা ছিল না। পরিবারের কাছ থেকে তেমন আর্থিক সাপোর্টও পেত না। ফলে অনেক বন্ধুদের কাছ থেকে ধারদেনা করে চলতো। এসব বিষয় নিয়ে সব সময় ডিপ্রেশনে ছিল সে।’
বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. কবির হোসেন বলেন, আমরা খবর পেয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় আমরা এক ছাত্রের লাশ উদ্ধার করেছি। হত্যা না আত্মহত্যা সেটা ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে। তবে প্রাথমিকভাবে আমরা আত্মহত্যা বলে ধরে নিচ্ছি। তার রুমে একটি চিরকুট পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ বলা যাবে।