ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ আরেকজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
সোমবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে মোহাম্মদ রাসেল নামের ৩৮ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়।
শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক এস এম আইয়ুব হোসেন এই তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, শরীরের ৪০ শতাংশ পুড়ে যাওয়া রাসেলকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। বেলা পৌনে ১২টার দিকে তার লাইফ সাপোর্ট খুলে নেওয়া হয়।
এর আগে রবিবার বিকালে এ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় আট বছরের শিশু তামিম হাসান। তার পাঁচ বছরের বোন মাহিনুর ঢাকায় আসার পথেই মারা গিয়েছিল। তাদের মা জেসমিন আক্তার এখনও হাসপাতালে ভর্তি। দুর্ঘটনার সময় জেসমিন ছিলেন অন্তঃসত্ত্বা, গর্ভের সন্তানকেও তিনি হারিয়েছেন।
গত ২৩ ডিসেম্বর রাতে ঢাকা থেকে বরগুনা যাওয়ার পথে ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে থাকা অবস্থায় অভিযান-১০ লঞ্চে আগুন লাগে। অনেকে নদীতে লাফিয়ে প্রাণ বাঁচাতে পারলেও কেবিনে থাকা অধিকাংশ যাত্রী জীবন্ত দগ্ধ হন।
ওই ঘটনায় এ পর্যন্ত ৪০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে; দগ্ধ বা আহত হয়েছেন শতাধিক। তাদের মধ্যে ১২ জন এখনও বার্ন ইন্সটিটিউটেচিকিৎসাধীন বলে ডা.আইয়ুব হোসেন জানান।
ওই ঘটনায় এ পর্যন্ত তিনটি মামলা হয়েছে। লঞ্চের মালিক হামজালাল শেখকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মাস্টার ইনচার্জ রিয়াজ সিকদার ও দ্বিতীয় মাস্টার খলিলুর রহমান, চালক মাসুম বিল্লাহ ও আবুল কালামও আদালতে আত্মসমর্পণ করেছে।