ইউপি নির্বাচন: গোবিন্দগঞ্জের এক কেন্দ্রে শতভাগ ভোট!

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শালমারা ইউনিয়নের বাইগুনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের মোট ভোটার দুই হাজার ১১৭। গত ২৬ ডিসেম্বর চতুর্থ ধাপে এ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ কেন্দ্রে শতভাগ ভোটগ্রহণ (কাস্টিং) দেখানো হয়েছে। 

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান পদের ফলাফল বাতিলের দাবিতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. আইয়ুব আলী।

গত ২৮ ডিসেম্বর গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং রিটার্নিং কর্মকর্তাকে এ অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচনে আমি স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে চশমা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা  করি। নির্বাচনের দিন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মো. আনিছুর রহমান তার লোকজন দিয়ে বাইগুনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে পরিকল্পিত ও অবৈধভাবে ভোটগ্রহণ করেন। এ বিষয়ে দায়িত্বরত ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা, প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যদের মৌখিকভাবে অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি। ভোটগ্রহণ শেষে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা তাড়াহুড়ো করে আমার পক্ষের ভোটের ব্যালটসহ সব ব্যালট নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর বান্ডিলে যোগ করে পরিকল্পিতভাবে ওই ভোটকেন্দ্রে মাত্র ১০টি করে ভোট আমার চশমা প্রতীকের বলে উল্লেখ করেন। একইভাবে অটোরিকশা প্রতীকের আরেক স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. আমির হোসেন শামিমের পক্ষেও ওই ভোটকেন্দ্রে মাত্র ১০টি ভোট দেখানো হয়। 

অভিযোগে আরো বলা হয়, এ ছাড়া হিয়াতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রেও অনিয়ম করায় আমাকে ও আমির হোসেন শামিমকে ১০টি করে ভোট দেখানো হয়েছে। এ ইউনিয়নের ১০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ৮টি ভোটকেন্দ্রে মাত্র ৩৩২টি ভোট পেলেও অন্য এই দুটি ভোটকেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা ৩৯৪৯টি ভোট অবৈধভাবে ফলাফলে যোগ করে নেন।

এসব অভিযোগ তুলে এ ভোটকেন্দ্রে ভোট পুনগণনা অথবা বাতিল করে শালমারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদের ফলাফল বাতিলের আবেদন জানান ওই স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী। 

এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিজয়ী প্রার্থী আনিছুর রহমান ভোটগ্রহণের দিন প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। 

এ বিষয়ে অভিযোগকারী প্রার্থী মো. আইয়ুব আলী বলেন, বাইগুনী কেন্দ্রে জাল ভোট প্রদানের মাধ্যমেই শতভাগ ভোটগ্রহণ দেখানো হয়েছে। কেননা গত পাঁচ বছরে কেউ মারা গেছে, কেউ দূরে চাকরি করে ও অনেকে ব্যস্ততার কারণে ভোট দিতে পারেননি। এসব ভোট নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা জাল দিয়েছেন। এ ছাড়া বাইগুনী ও হিয়াতপুর কেন্দ্রে আমার ও আমির হোসেন শামিমের ভোট নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে যোগ করা হয়েছে। কেননা একই কেন্দ্রে দুই প্রার্থীর ১০টি করে ভোট পাওয়া কখনোই মিলে যেতে পারে না। 

শতভাগ ভোট পড়ার বিষয়ে বাইগুনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) মহিমাগঞ্জ শাখার কর্মকর্তা সাকিল আহম্মেদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তিনি সাংবাদিক পরিচয় শুনে ভুল নম্বর বলে ফোন কেটে দেন। 

আর হিয়াতপুর কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মো. আব্দুর রউফ মিয়া অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। 

তবে অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করেন ওই ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ আলম পারভেজ। 

তিনি ফোনে বলেন, ওই কেন্দ্রে শতভাগ ভোট পড়ার বিষয়টি অস্বাভাবিক। তবে কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তার দেওয়া ভোটের হিসাব করেই ফলাফল ঘোষণা করা হয়ে থাকে। এ বিষয়ে তাদের করণীয় কিছু নেই। এটা আইনের মাধ্যমে সমাধান হতে পারে। এ জন্য সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বা অভিযোগকারী গাইবান্ধা জেলার নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল ও আপিল ট্রাইব্যুনালে মামলা করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে ভোটের গেজেট প্রকাশ হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে আবেদন করতে হবে। ট্রাইব্যুনাল সেই আবেদন ১৮০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করবে। সেখানে সুবিচার পাননি মনে করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ট্রাইব্যুনালের রায়ের ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে পারবেন। আপিল ট্রাইব্যুনালও পরবর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তি করবে।