রাজধানীর মোহাম্মদপুরে তানজিন উমাইয়া নামে হৃদরোগে আক্রান্ত চার মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে
নতুন বছরের প্রথম দিনে। বর্ষবরণের রাতে আতশবাজির শব্দে ওই শিশু সারারাত ঘুমাতে পারেনি বলে তার পরিবার জানায়। পরদিন তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দুপুরের দিকে তার মৃত্যু হয়।
হাসপাতাল থেকে দেওয়া সনদে মৃত্যুর কারণ হিসেবে 'সাডেন হার্ট ফেইলিওর' উল্লেখ করা হয় বলে পরিবার জানায়।
শিশুটির নাম তানজিন উমায়ের। বয়স চার মাস ২০ দিন।
তার বাবা ইউসুফ রায়হান শিশুর ছবিসহ ৩১ জানুয়ারি রাত ১২টার আগে ফেসবুকে লেখেন, ''কী বিকট শব্দে আতশবাজি। আমার ছোট বাচ্চাটি এমনিতেই হার্টের রোগী। আতশবাজির প্রচণ্ড শব্দে শিশু বাচ্চাটি আমার ক্ষণে ক্ষণে কেঁপে ওঠে। খুব ভয় পাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। খুবই আতঙ্কের মধ্য দিয়ে সময়টা পার করছি। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সন্তানদের বুঝ দান করুক। দোয়া করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।''
তার এ পোস্ট ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সোমবার রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ওই রাতে আতশবাজির শব্দে আমার শিশুটি কেঁপে কেঁপে উঠছিল। পরে আমি আর তার মা তাকে জড়িয়ে ধরি যেন সে শব্দ শুনতে না পায়। এভাবে ভোর ৫টা পর্যন্ত শিশুটি ঘুমাতে পারেনি। অন্যদিন সে আগেই ঘুমিয়ে যায়।
উমায়ের জন্মের সময় থেকে অসুস্থ জানিয়ে ইউসুফ রায়হান জানান, তার সন্তানের হার্টে এবং শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা ছিল।
মিরপুরের ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে ডা. এ কে এম শামসুদ্দিনের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলছিল। হাসপাতাল থেকে চিকিৎসকের পরামর্শে সাতদিনের জন্য তাকে বাসায় নিয়ে আসা হয়। ফেব্রুয়ারিতে অপারেশনের কথা ছিল।
তিনি বলেন, অন্যদিন তাকে এক-দুবার নেবুলাইজার দিলে ঘুমিয়ে পড়ত। সেদিন (বর্ষবরণের রাত) চারবার নেবুলাইজার দেওয়ার পরও সে ঘুমাতে পারেনি। সকালে (১ জানুয়ারি) আমরা তাকে আবার হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে আসরের নামাজের সময় তার মৃত্যুর খবর পাই।
ইউসুফ রায়হান বলেন, আমি ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বলতে পারি আল্লাহ তার বান্দাকে নিয়ে গেছেন। তারপরও সবার প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে এভাবে শব্দ করে আতশবাজি ফাটালে বিশেষত যারা হৃদরোগে আক্রান্ত তাদের অনেক সমস্যা হয়। আমরা সুস্থরাও অনেক সময় বাজি ফাটার শব্দে চমকে উঠি।
তিনি জানান, তার স্ত্রী এবং আরেকটি পাঁচ বছরের সন্তান রয়েছে। তারা মোহাম্মদপুরে থাকেন। তিনি একটি ছোট দোকান চালন। তাদের বাড়ি ময়মনসিংহ।