রাষ্ট্রপতির সংলাপ

ইসি গঠনে গণতন্ত্রী পার্টির ৮ ও খেলাফত আন্দোলনের ৬ দফা প্রস্তাব

একটি স্বাধীন নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে চলমান সংলাপে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদকে গণতন্ত্রী পার্টি আট ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ছয় দফা প্রস্তাব দিয়েছে।

সোমবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে গণতন্ত্রী পার্টি ও খেলাফত আন্দোলনের প্রতিনিধিরা পৃথক ভাবে সংলাপে অংশ নিয়ে তাদের প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন বাসসকে জানান, গণতন্ত্রকে বিকশিত করতে সকল রাজনৈতিক দলগুলোকে পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, সুস্থ রাজনীতির বিকাশে দল পরিচালনায় নীতি ও আদর্শের প্রতিফলন ঘটাতে হবে।

প্রেস সচিব বলেন, সন্ধ্যায় গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতি ব্যারিস্টার আরশ আলী এবং সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেনের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বঙ্গভবনের দরবার হলে আলোচনায় অংশ নেন।

গণতন্ত্রী পার্টির ইসি গঠনে আইন প্রণয়ন এবং সাংবিধানিক কাউন্সিল গঠনসহ আট দফা প্রস্তাবনা দেন রাষ্ট্রপতির কাছে।

সংলাপে গণতন্ত্রী পার্টির নেতারা প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ নিয়োগের ক্ষেত্রে একটি সাংবিধানিক কাউন্সিল গঠনের ও প্রস্তাব করেন। তাদের প্রস্তাবনা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলের নেতা, স্পিকার, প্রধান বিচারপতি ও অ্যাটর্নি জেনারেলকে নিয়ে একটি সাংবিধানিক কাউন্সিল গঠন করা যেতে পারে এবং এই কাউন্সিল প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে নাম প্রস্তাব করবেন।

তারা নির্বাচন কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে যোগ্য, দক্ষ, নির্মোহ, সৎ ও জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীদের নিয়োগ দেয়ার প্রস্তাব করেন।

গণতন্ত্রী পার্টির নেতারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী ব্যক্তি ও রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করতে হবে এবং নির্বাচনে ধর্মের অপব্যবহার, কালো টাকা, অস্ত্র ও পেশিশক্তির ব্যবহারকারীদের তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার ও শাস্তি দানের ব্যবস্থা নিতে হবে। তারা আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের ব্যর্থতা এবং কর্মকাণ্ডের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের চেয়ারম্যান মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজি এবং মহাসচিব মাওলানা হাবিবুল্লাাহ মিয়াজীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল আলোচনায় অংশ নেন। সংলাপে তারা একটি নিরপেক্ষ, সক্ষম, শক্তিশালী, দক্ষ ও যোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠনের গঠনের জন্য একটি স্থায়ী আইন প্রণয়নসহ ছয় দফা প্রস্তাবনা পেশ করেন।

সংলাপে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নেতারা নির্বাচন কমিশনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর লক্ষ্যে ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রস্তাব দেন।

তারা বলেন ধর্মবিদ্বেষী, চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ, কালো টাকার মালিক, অবৈধ সম্পদের অধিকারী, সন্ত্রাসী, সাজাপ্রাপ্ত অপরাধী, ঋণখেলাপির সাথে জড়িত পরিবারবর্গকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা করতে হবে।

নেতৃবৃন্দ নির্বাচন কমিশন কর্তৃক রাজনৈতিক দলগুলোর সকল কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য রাখার প্রস্তাবকে বাধ্যতামূলক না করে, ঐচ্ছিক করার প্রস্তাব দেন।

গত ২০ ডিসেম্বর ইসি গঠনে আয়োজিত সংলাপের প্রথম দিনে সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সাথে আলোচনায় বসেন রাষ্ট্রপতি হামিদ। এখন পর্যন্ত মোট ১১ টি রাজনৈতিক দলের সাথে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের সাথে সন্ধ্যা ছয়টায় ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সন্ধ্যা সাতটায় রাষ্ট্রপতির সংলাপ হওয়ার কথা।