বাংলাদেশের ওপর কোনো কোনো দেশের অসন্তুষ্টির কারণ খুঁজে দেখছি এবং তা দূর করার চেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।
সোমবার সন্ধ্যায় নিজ দপ্তরে নতুন বছরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির চ্যালেঞ্জ বিষয়ে আলাপকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রসঙ্গত, গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র্যাব ও সংস্থাটির সাবেক-বর্তমান সাত কর্মকর্তার ওপর গত বছরের ১০ ডিসেম্বর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে পৃথকভাবে এই নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট (রাজস্ব বিভাগ) ও পররাষ্ট্র দপ্তর।
এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনকে চিঠি দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। চিঠিতে তিনি ব্লিঙ্কেনকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে র্যাব ও সংস্থাটির সাবেক-বর্তমান সাত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনার জন্য ব্লিঙ্কেনকে অনুরোধ জানান।
সাংবাদিকরা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনকে দেয়া চিঠির বিষয়ে জানতে চাইলে মোমেন বলেন, চিঠির জবাবের অপেক্ষায় রয়েছি।
উল্লেখ্য, ওই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণার পর গত ১৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেনকে ফোন করেছিলেন। পরে আব্দুল মোমেন নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে ব্লিঙ্কেনকে চিঠি দেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেখি কী জবাব আসে। আমরা তাদের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছি। আশা করি তাদের জবাবে ইতিবাচক কিছু আসবে, আমরা এ নিয়ে আশাবাদী।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন বলেছেন, আমরা সব দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক চাই। আমরা আমাদের বৈদেশিক সম্পর্কের মূলনীতি “কারও সঙ্গে শত্রুতা নয়, সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব” মেনেই কাজ করছি। আমরা সেই নিরপেক্ষ নীতি ধরে রাখতে চাই। আমরা সবার সঙ্গে আরও বেশি সম্পৃক্ত হতে চাই।
এক প্রশ্নের জবাবে আব্দুল মোমেন বলেন, কিছু কিছু দেশ কী কারণে অসন্তুষ্ট, সেটি আমরা শোধরানোর চেষ্টা করব। তারা কোনো মিথ্যা তথ্যের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে থাকলে আমরা তাদের সত্য তথ্য দিয়ে বোঝাব। আশা করি, তারা আমাদের বুঝবে। কারণ, ওই সব দেশের নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তারা দায়িত্বশীলও বটে। তা ছাড়া আমরা আমাদের দুর্বলতাগুলোও চিহ্নিত করে তা সংশোধনের চেষ্টা করব।