জাতীয় দলে ক্রিকেটার নির্বাচন নিয়ে এমনিতেই সমালোচিত মিনহাজুল আবেদিন নান্নু। এবার মোহাম্মদ আশরাফুলকে ব্যক্তিগত কথার আক্রমণ করে নিজের ওপর চাপ আরও বাড়ালেন প্রধান নির্বাচক। আশরাফুলকে ‘দেশদ্রোহী’ ও ‘ফিক্সার’ আখ্যায়িত করেছেন তিনি। এর বিপরীতে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে নান্নুর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই বলে জানান আশরাফুল।
ঘটনার সূত্রপাত আশরাফুলের এক মন্তব্য থেকে। সাবেক এই অধিনায়ক এক টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষৎকারে বলেন, জাতীয় দলের নির্বাচক প্যানেলের সদস্যদের কাজের মেয়াদ ৩ থেকে ৪ বছর হলে ভালো হয়। এর জবাবে প্রধান নির্বাচক নান্নু এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে বলেন, ‘আশরাফুলের এই কথার সঙ্গে আমি একটা জিনিস যুক্ত করতে চাই। অস্ট্রেলিয়ার একজন প্রধান নির্বাচক কত বছর কাজ করেছেন ওর বোধহয় ধারণা নেই। প্রায় ৯ থেকে ১২ বছর একটানা কাজ করেছেন। অস্ট্রেলিয়া কি ক্রিকেট থেকে পিছিয়ে গিয়েছে? ওর তো বোঝার কথা না। যেসব খেলোয়াড় দেশদ্রোহী হয়ে ম্যাচ ফিক্সিংয়ে জড়িয়ে নিষিদ্ধ হয়, ওদের কাছ থেকে ভালো পরামর্শ আশা করা কঠিন।’
নান্নুর ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। ফেইসবুক লাইভে আশরাফুল নিজের মন্তব্য পরিষ্কার করে বলেন, তিনি কোনো নির্বাচকের নাম নেননি এবং কারও বিরুদ্ধে বাজে কিছুও বলেননি। আর তার বিরুদ্ধে যেই অভিযোগ সেটা ২০১৩ সালের, যার জন্য নিজে প্রকাশ্যে ক্ষমাও চেয়েছেন। ২০১৪ সালে বিপিএল স্পট ফিক্সিংয়ে আট বছরের জন্য নিষিদ্ধ হন আশরাফুল। পরে আপিলের মাধ্যমে শাস্তি কমে ২০১৮ সালে এপ্রিলে আবারও ক্রিকেটে ফেরেন তিনি।
বিষয়টি এখন বিসিবির দুয়ারে পৌঁছেছে। ক্রিকেট অপারেশন্সের চেয়ারম্যান হিসেবে শুরুতেই কঠিন পরিস্থিতির মুখে জালাল আহমেদ চৌধুরী। তবে নিজেই এ সিদ্ধান্ত না নিয়ে বিসিবি প্রধান নাজমুল হাসান পাপনের শরণাপন্ন হবেন বলে জানান তিনি। তাছাড়া একজন সাবেক অধিনায়কের বিরুদ্ধে বোর্ডের সদস্য হয়ে নান্নুর এভাবে বলা উচিত হয়নি বলে জানান জালাল, ‘সে (আশরাফুল) একজন বর্তমান খেলোয়াড়, আবার সাবেক অধিনায়কও অবশ্যই। যেহেতু সে এখনো আমাদের অধীনে খেলছে সেহেতু এভাবে ব্যক্তিগত আক্রমণ করা ঠিক হয়নি। আমি শুনেছি এটা যেটা হয়েছে, এটা নিয়ে আমাদের আলাপও হয়েছে। দেখা যাক, এটা নিয়ে আমরা বোর্ড সভাপতির সঙ্গে আলাপ করব। কারও ব্যাপারেই এভাবে আক্রমণ... আপনি একটা অবস্থানে আছেন বোর্ডের। ঐ জায়গা থেকে এটা না করাটাই ভালো হতো। যেহেতু নির্বাচক প্যানেল আমাদের ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের আওতায়, আমরা এটা নিয়ে আজও আলাপ করেছি। এখন বোর্ড সভাপতির সঙ্গেও কথা বলব।’ এদিকে এই ঘটনার পরও প্রধান নির্বাচক নান্নুর বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করবেন না আশরাফুল। বিষয়টি বোর্ডের ওপরই ছেড়ে দিয়েছেন বলে দেশ রূপান্তরকে জানান, ‘এখানে আমার অভিযোগের কিছু নেই। নান্নু ভাই আমাদের সিনিয়র। আর বোর্ড এ ব্যাপারে যেটা ভালো বোঝে সেটা করবে। এটা বোর্ডের সিদ্ধান্ত। এখানে আমার কিছু বলার নেই।’