দেশে দুই ডোজ টিকা পেয়েছেন এমন ষাটোর্ধ্ব এবং সম্মুখসারীর ব্যক্তিদের করোনার বুস্টার ডোজ দেওয়া হচ্ছে। এমনকি করোনায় আক্রান্ত হলে যাদের মৃত্যুঝুঁকি বেশি এবং যারা শারীরিকভাবে অসুস্থ, তাদেরও বুস্টার ডোজ দেওয়া হবে। পাশাপাশি বয়সসীমা ৬০ বছর থেকে কমানোর কথাও ভাবছে সরকার।
গতকাল সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, যাদের কোমরবিডিটি আছে, স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিতে আছেন, তারা বুস্টার নিতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে বয়স কোনো বাধা হবে না।
তিনি আরও বলেন, এসএমএস না পেলেও যেকোনো বয়সের রোগীরা করোনা টিকার বুস্টার ডোজ নিতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে ওই ব্যক্তিকে তার অসুস্থতা বিষয়ে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যগত নথি দেখাতে হবে। ইতিমধ্যেই সব টিকাকেন্দ্রকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যাযুক্ত ব্যক্তিরা আগে দুই ডোজ টিকা নিয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র থেকে বুস্টার ডোজ নিতে পারবেন।
খুরশীদ আলম বলেন, ‘আর কেউ যদি নিবন্ধনের সময় তথ্য না দিয়ে থাকেন, তাকে দেখাতে হবে যে ক্যানসারে আক্রান্ত। অনেক ধরনের কোমরবিডিটি আছে। আমরা চিন্তা করছি যে কোমরবিডিটিগুলো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ক্যানসার, অ্যান্টিক্যানসার ড্রাগ খেয়েছে, রেডিয়েশন পেয়েছে, কেমোথেরাপি পেয়েছে, ইমিউনটি দুর্বলএ ধরনের মানুষকে আমরা প্রাধান্য দিতে চাচ্ছি।’
সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এস এম আলমগীর কবির দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দুই ডোজ টিকা পেয়েছেন এমন ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তি এবং সম্মুখসারীর ব্যক্তিদের করোনার বুস্টার দেওয়া হচ্ছে। তা কমিয়ে প্রথমে ৫৫, পরে ৫০ বছরে নামিয়ে আনা হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৮ ডিসেম্বর দেশে করোনা টিকার বুস্টার ডোজ দেওয়া শুরু হয়েছে। বর্তমানে ৬০ বছরের বেশি বয়সী এবং করোনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবিলায় সম্মুখসারীতে থাকা ব্যক্তিরা বুস্টার ডোজ পাচ্ছেন। তাদের মধ্যে যাদের দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পর ছয় মাস পার হয়েছে, তাদেরই তৃতীয় বা বুস্টার ডোজ দেওয়া হচ্ছে। এ পর্যন্ত ১ লাখ ১৪ হাজার ৭৪০ জন তৃতীয় ডোজ নিয়েছেন। দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ৫ কোটি ২৮ লাখ ৪৩ হাজারের বেশি মানুষ। এক ডোজ টিকা নিয়েছেন ৭ কোটি ৪৪ লাখ ৮৩ হাজারের বেশি মানুষ।
দেশে এখন প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ হিসেবে ফাইজার, মডার্না, অ্যাস্ট্রাজেনেকা, সিনোফার্ম এবং সিনোভ্যাকসের টিকা দেওয়া হচ্ছে। তবে বুস্টার ডোজ হিসেবে ফাইজার, মডার্না অথবা অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দেওয়ার সুপারিশ করেছে ন্যাশনাল ইমিউনাইজেশন টেকনিক্যাল কমিটিনাইট্যাগ।