লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দায়ীদের চিহ্নিত করেছে কমিটি

ঢাকা থেকে বরগুনা যাওয়ার পথে লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডে বহু হতাহতের ঘটনায় গঠিত একটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার দাবি করা হয়েছে।

সোমবার রাতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে বেশ কিছু সুপারিশও করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘তারা দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করেছে। সেই সঙ্গে তারা কিছু সুপারিশ করেছে।’

তিনি জানান, চাইলেই যেন লঞ্চের যন্ত্রাংশ পরিবর্তন করা না যায় সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করা হয়েছে।

অবশ্য এখনই তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতে চাননি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মকর্তা বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের জন্য লঞ্চটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দায়ী করে প্রতিবেদন দিয়েছে তদন্ত কমিটি।

ওই ঘটনার পেছনে সদরঘাটে কর্মরত নৌপরিবহন অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের দায়িত্বে পালনেও চরম অবহেলা ছিল বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ত্রুটিপূর্ণ ইঞ্জিনের কারণে লঞ্চটিতে আগুন লাগে বলে তদন্ত কমিটি দেখতে পেয়েছে। বিশেষ করে লঞ্চের ইঞ্জিনে ত্রুটি দেখতে পাওয়ার পরেও লঞ্চের কর্মীরা কোনো ব্যবস্থা নেননি।

আগুন লাগার পরে সেটি নেভাতেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটি দেখতে পেয়েছে, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের অনুমতি না নিয়ে লঞ্চের মালিক ইঞ্জিন পরিবর্তন করেছেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে ২৫টি সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রোটেশন পদ্ধতিতে লঞ্চ চলাচল বন্ধ, লঞ্চ ছাড়ার আগে যথাযথভাবে পরিদর্শন, ঘনঘন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, লঞ্চের কর্মীদের প্রশিক্ষণের বিষয় উল্লেখ রয়েছে।

গত ২৩ ডিসেম্বর রাতে ঢাকা থেকে বরগুনা যাওয়ার পথে অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে কমপক্ষে ৪৭ জনের মৃত্যু হয়। এখনো কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন। দগ্ধ অনেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ওই ঘটনা খতিয়ে দেখা ও দায়ীদের চিহ্নিত করতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়।

লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নৌ আদালতে করা মামলায় তিন মালিক ও চার মাস্টার-চালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।