রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর লিয়াকত আলী ‘ছিনতাই চক্রের সঙ্গে জড়িত’ এমন ধারণা করে তার পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসে তিন দিনের ব্যবধানে দুটি ছিনতাইয়ের ঘটনার প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে এ দাবি জানানো হয়।
মঙ্গলবার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
এ ছাড়া ক্যাম্পাসের সর্বত্র নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়। সেই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শিক্ষার্থীরা।
এসময় ‘নিরাপত্তার অজুহাতে নারী শিক্ষার্থীদের হয়রানি বন্ধ কর’; ‘ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নাই কেন, প্রশাসন জবাব চাই’; ‘দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ প্রক্টরের পদত্যাগ চাই’; ‘সিসি ক্যামেরার কাজ কী, প্রশাসন জবাব চাই–এসব লেখা সম্বলিত প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান শিক্ষার্থীরা।
কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে যখন এক অজানা আতঙ্কে বসবাস করে, তখন তারা পড়াশোনায় মনযোগী হবে কি করে? বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা না দিতে পারে, তাহলে তারা বলুক, তখন শিক্ষার্থীরা নিজেদের নিরাপত্তা নিজেরাই করে নেবে।
রাকসু আন্দোলন মঞ্চের সমন্বয়ক আব্দুল মজিদ অন্তর বলেন, ‘ক্যাম্পাসে সিসি ক্যামেরা, প্রক্টোরিয়াল বডি, পুলিশ প্রশাসনের কাজ কী? তারা কী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে পারছেন? সম্প্রতি ক্যাম্পাসে দু’টি ছিনতাইয়ের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখিনি। আমার মনে হয় এই ছিনতাই চক্রের সঙ্গে প্রক্টর নিজেই জড়িয়ে আছেন। প্রক্টর যদি ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা না দিতে পারেন তাহলে আপনি অনতিবিলম্বে পদত্যাগ করুন’।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদ সাকীর সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মিঠুন চন্দ্র মহোন্ত, ছাত্র অধিকার পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক আমানুল্লাহ খান প্রমুখ।
শিক্ষার্থীরা জানান, সোমবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে এবং শুক্রবার দুপুরে প্যারিস রোডে ছিনতাইয়ের শিকার হন দুই ছাত্রী।