জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সড়কে শৃঙ্খলা চান শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

দুই অটোরিকশার মধ্যকার সংঘর্ষে এক ছাত্রী গুরুতর আহত হওয়ার পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অটোরিকশার চলাচল বন্ধ করাসহ সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

বুধবার এক বিবৃতির মাধ্যমে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে মানববন্ধনে এসব দাবি করা হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ক্লাবের সামনের সড়কে দুই অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

ওই দুই রিকশার একটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী পূজা মজুমদার ছিলেন।

এ দুর্ঘটনায় পূজা গুরুতর আহত হন। এখন সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।

দুর্ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ক্যাম্পাসে অটোরিকশার চলাচল বন্ধ করাসহ অন্যান্য যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণের দাবি উঠেছে। একইসঙ্গে পূজার চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করা ও দুর্ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান তারা।

বুধবার এক বিবৃতির মাধ্যমে শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।

শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক লায়েক সাজ্জাদ এন্দেল্লাহ্ এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. মোতাহার হোসেন স্বাক্ষরিত এ বিবৃতিতে জাহাঙ্গীরনগরের সবুজ ক্যাম্পাসে ব্যাটারিচালিত রিকশা অনুপযোগী বলে এর চলাচল বন্ধ করার দাবি জানানো হয়।

পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আহত ছাত্রীর চিকিৎসার ব্যয় বহন করা এবং দুর্ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করারও দাবি জানায় শিক্ষক সমিতি।

এদিকে একই ঘটনার জেরে বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার সংলগ্ন সড়কে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা।

সেখানে অটোরিকশা বন্ধ করা, আহত ছাত্রীর চিকিৎসার ব্যয় বহন করা এবং রিকশার চালককে গ্রেপ্তার করাসহ আরও তিনটি দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের অন্য দাবিগুলো হল- মোটরবাইক ও ব্যক্তিগত গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ করা, বহিরাগতদের গাড়ির প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা এবং সড়কের প্রয়োজনীয় স্থানে গতিরোধক স্থাপন।

মানববন্ধনে এই দাবিগুলো তুলে ধরেন ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী নুরুজ্জামান শুভ।

তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অতি দ্রুত আমাদের এই দাবিগুলো মেনে নিবে বলে আশা করি।’

মানববন্ধনে সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষার্থী তাওফিকুর রহমান বলেন, ‘একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা নিরাপদে চলাচল করতে পারে না, এটা খুবই হতাশাজনক।

রিকশা, মোটরসাইকেল কিংবা প্রাইভেটকার কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়কে চলবে সেটার জন্য কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তা না হলে অনিয়ন্ত্রিত গাড়ি চলাচলে এ ধরনের দুর্ঘটনা শিক্ষার্থীদের জীবনকে অনিশ্চয়তায় ফেলে দিচ্ছে।’

সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌসের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন বাংলা বিভাগের জহির ফয়সাল, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের ওয়াজিহা রহমান লামিয়া এবং বাংলা বিভাগের মির্জা সোহাগ।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, আমরা চেষ্টা করছি ক্যাম্পাসের সড়কে যানবাহন নিয়ন্ত্রণে আনার। ক্যাম্পাসে গতকাল রাত থেকে অটোরিকশার চলাচল বন্ধ রয়েছে। দ্রুতই প্রশাসনিকভাবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। এ সব রিকশার মালিকানায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, কর্মচারী ও ব্যবসায়ীরা আছে। অর্থাৎ এতে যাদের সম্পৃক্ত হওয়ার কথা না তারাও রয়েছে। আর রিকশা চালকদের কোন প্রশিক্ষণ নেই।

আরও বলেন, রিকশা চালকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিলে বিশ্ববিদ্যালয়েরই একটা শ্রেণি কান্নাকাটি শুরু করে দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিউনিটির একটা অংশ চাই এটা চলুক। ক্যাম্পাসে আবার অনেকে অনিয়ন্ত্রিত বাইক চালায়। এর পুরোটাতেই নিয়ন্ত্রণ দরকার। এ জন্য শিক্ষার্থীদের সহায়তা দরকার। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশে সব সময় থাকি। আশা করছি, আহত শিক্ষার্থীর পাশে বিশ্ববিদ্যালয় থাকবে।