ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকালে কুমিল্লায় সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করলেন হোমনা ইউএনও

ভোট কেন্দ্রে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করেছেন কুমিল্লার হোমনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুমন দে। এ সময় সাংবাদিকতার আইডি কার্ড ও নির্বাচন অফিসের পর্যবেক্ষক কার্ড দেখানোর পরেও চরম দুর্ব্যবহার করেন নির্বাহী অফিসার এবং অশ্রাব্য ভাষায় গালমন্দ করেন।

দেশ রূপান্তরের কুমিল্লা প্রতিনিধি ও কুমিল্লা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন জাকিরকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন তিনি।

বুধবার বেলা ১২টার দিকে জেলার লালমাই উপজেলার দক্ষিণ ভুলইন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৭ নম্বর ছোটতুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। 

নির্বাহী অফিসার রুমন দে’র বাজে আচরণের সুযোগ পেয়ে তার সঙ্গে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও তেড়ে আসেন সাংবাদিক দেলোয়ার হোসেন জাকিরের দিকে। পরে পুলিশের কয়েকজন সদস্য জাকিরকে চিনতে পেরে পরিস্থিতি শান্ত করেন। 

এ বিষয়ে দেলোয়ার হোসেন জাকির জানান, কেন্দ্রে গিয়ে ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মো. খোরশেদ আলমের সঙ্গে কথা বলে বের হয়ে আসার পর পরই তার পরিচয় জানতে চান নির্বাহী অফিসার রুমন দে। সঙ্গে সঙ্গে পরিচয় দিয়ে কর্মরত সংবাদপত্র ও নির্বাচন কমিশনের আইডি কার্ড দেখান জাকির। কিন্তু পরিচয় পেয়েও ক্ষিপ্ত হয়ে কেন্দ্র থেকে বের হয়ে যেতে বলেন নির্বাহী অফিসার, এ সময় কোনো কারণ ছাড়াই জাকিরকে অশ্রাব্য ভাষায় গালমন্দ করেন তিনি। বেশ কয়েকবার তার দিকে তেড়েও আসেন। তার সঙ্গে যুক্ত হন উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও।

পরে উপস্থিত বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য সাংবাদিক জাকিরকে চিনতে পেরে নির্বাহী অফিসার রুমন দে’কে চুপ করান।

উপজেলা নির্বাহী অফিসারের এমন অশালীন আচরণ ও সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করার বিষয়টি কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান ও প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক মো. শাহাদত হোসাইনকে জানান দেলোয়ার হোসেন জাকির। রুমন দে’র সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান জেলা প্রশাসক।

সাংবাদিকের সঙ্গে হোমনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুমন দে’র এমন বাজে আচরণের বিষয় জানতে পেরে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কুমিল্লার সাংবাদিকেরা। তারা হোমনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুমন দে বিচার দাবি করেন।

সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করার বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা হোমনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুমন দে বলেন, আমার সঙ্গে কোনো সাংবাদিকের সঙ্গে এ রকম ঘটনা ঘটেনি।