বিচার না পাওয়ার আক্ষেপ নিয়ে চলে গেলেন মেহেরুন রুনির মা

মেয়ে ও জামাতা হত্যার বিচার না পাওয়ার আক্ষেপ নিয়েই চলে গেলেন সাংবাদিক মেহেরুন রুনির মা নুরুন নাহার মির্জা (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

বুধবার সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

কোভিড ও কিডনির জটিলতা নিয়ে মাসখানেক ধরে হাসপাতালে ভর্তি থাকা নুরুন নাহার মির্জার বয়স হয়েছিল ৬৪ বছর।

স্বজনরা জানান, সকাল ৮টার দিকে বিএসএমএমইউতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। ডিসেম্বরে তাকে ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ছিলেন।

নুরুন নাহার ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিডনি ডায়ালাইসিস শুরু করার পর তিনি করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হন। এরপর ৩ জানুয়ারি তাকে বিএসএমএমইউতে স্থানান্তর করা হয়।

তার মরদেহ ইন্দিরা রোডের বাসার কাছের মসজিদে জানাজা শেষে আজিমপুর কবরস্থানে দাফনের কথা রয়েছে। সেখানে সাগর-রুনিকেও দাফন করা হয়।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন নাহার রুনি। ওই রাতে তারা ছাড়াও ঘরে ছিলেন তাদের একমাত্র শিশু সন্তান মাহির সরওয়ার মেঘ।

রুনির ভাই মো. নওশের আলম রোমান হত্যার অভিযোগে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। এরপর প্রায় ১০ বছর হতে চললেও মামলার তদন্তই শেষ হয়নি।

এখন পর্যন্ত ৮৪ বার সময় চেয়েও ব্যর্থ হয়েছে মামলাটির তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাব। আগামী ২৪ জানুয়ারি পরবর্তী তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ রয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের শিকার সাগর-রুনির মেয়ে মেঘ এতদিন তার নানীর কাছেই থাকতেন।