শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নে পরাজিত মেম্বার প্রার্থীকে আরেক পরাজিত প্রার্থী পিটিয়ে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন তার স্বজনরা। বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে নওপাড়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। স্বজনদের চলছে আহাজারি।
নিহত আব্দুল মালেক মালত (৫৫) ইউনিয়নের আজিজুল হক মুন্সীকান্দি গ্রামের মৃত কচর আহাম্মেদ মালতের ছেলে।
গতকাল ৫ জানুয়ারি ওই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মোরগ মার্কার সাধারণ সদস্য পদের প্রার্থী ছিলেন তিনি। তবে অল্প ভোটে পরাজিত হয়েছেন তিনি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পরাজিত মেম্বার প্রার্থী মালেক মালত আজ সকালে নওপাড়া বাজারে যান। তখন তার প্রতিপক্ষ পরাজিত মেম্বার প্রার্থী টিউবওয়েল মার্কার দেলোয়ার হোসেন মালত হঠাৎ করে মাথায় বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে আহত করেন মালেককে। দেলোয়ার হোসেন নওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের বিজয়ী চেয়ারম্যান জাকির মুন্সীর (আনারস) সমর্থক বলে জানা গেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় মালেককে পাশের জেলা মুন্সীগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মালেক মালত মোরগ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সব মিলিয়ে নওপাড়া ইউপির ৭নম্বর ওয়ার্ডে চারজন মেম্বার প্রার্থী। অপর তিন প্রার্থী হলেন দেলোয়ার হোসেন মালত (টিউবয়েল), তাফাজ্জেল তপদার (আপেল) ও
দেলু বেপারী (ফুটবল)। এর মধ্যে ইউপি সদস্য বিজয়ী হয়েছেন তাফাজ্জেল তপদার।
নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অবনি সংকর কর বলেন, মালেক মালত ও দেলোয়ার হোসেন মালত আপন চাচাতো ভাই। দুজনই পরাজিত হয়েছেন। গতকাল রাতে এক বংশের দুই প্রার্থী হওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়।
আজ সেই জেরে মালেক বাজারে গেলে তাকে বাঁশ দিয়ে মাথায় আঘাত করে দেলোয়ার। পরে হাসপাতালে নিলে মৃত্যু হয় মালেকের।
তিনি বলেন, মরদেহটি মুন্সীগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত করতে বলা হয়েছে। তারা যদি না করেন তাহলে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে এনে করা হবে। এ ব্যাপারে মামলা হবে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।