পরিবহন-খাবারের দোকান-শপিংমলে টিকা সনদ বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা

করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন রোধ করতে হোটেল-রেস্তোরাঁ, শপিংমল, ট্রেন-প্লেন-লঞ্চে করোনার টিকা সনদ দেখানো বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা করছে সরকার। এ ছাড়া স্কুল শিক্ষার্থীদের মধ্যে যাদের বয়স ১২ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে, করোনার টিকার অন্তত এক ডোজ নেওয়া না থাকলে তাদেরও স্কুলে যেতে নিষেধ করা হবে।

বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ রকম সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরিকল্পনা নেয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ তথ্য সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘গত ৩ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একটি সভা হয়েছে। সেখানে যে বিষয়টি পয়েন্ট আউট করা হয়েছে, সেটা হল ভ্যাকসিনটা আরও জোরদার করতে হবে। বুস্টারটাকে আরও কীভাবে কমফোর্টেবল ও বিস্তৃত করা যায়, সেটা দেখতে হবে। …ওমিক্রমের বিষয়ে বলা হয়েছে, আমরা এখন থেকে রেস্টুরেন্ট, শপিংমল, প্লেন, ট্রেন ও লঞ্চে যারা উঠবে তাদের একটা টাইম দিয়ে… ডাবল ভ্যাকসিনেশন সার্টিফিকেট ছাড়া কেউ যাতে না ওঠে, সেরকম একটা চিন্তা-ভাবনার দিকে যেতে হবে।’

স্কুল শিক্ষার্থীদের করোনার টিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে বলা হয়েছে। ৩ জানুয়ারি এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, আর আজ কেবিনেট বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রীকে বলা হয়েছে।’

রেস্তোরাঁয় বা শপিংমলে টিকা তদারকির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মোবাইলে সফট কপি থাকবে কিংবা হার্ড কপি থাকবে। আর কোনো দেশেই পুরো জনসংখ্যার তদারকির সম্ভব নয়, স্যাম্পল হিসেবে করা হয়। সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার স্বাস্থ্য পরিদর্শক যারা আছেন, তারা এটা পরীক্ষা করবেন, আইন শৃঙ্খলাবাহিনীও বিষয়টি দেখবে।

এক প্রশ্নের জবাব সচিব বলেন, ‘টেকনিক্যাল কমিটির সঙ্গে বসে দুয়েক দিনের মধ্যে এটা জানিয়ে দেওয়া হবে। তবে স্কুল শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কেউ যাতে মাস্ক ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হয়, তা নিশ্চিত করতে আবারও কঠোর অবস্থানে যাওয়া হবে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিষয়টি বাস্তবায়ন হবে।’

তিনি বলেন, সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান সীমিত রাখতে হবে এবং পরিবহনে মাস্কসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা বাধ্যতামূলক করতে হবে।

গণপরিবহনে যাত্রী সংখ্যা সীমিত করা হচ্ছে কি না- সেই প্রশ্নে সচিব বলেন, ‘যদি করোনা পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যায়, তাহলে ৫০ শতাংশে নেওয়া যায় কি না, সেজন্য আগেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে আবার মিটিং করতে না হয়।’

গণপরিবহনের অর্ধেক আসনে যাত্রী বহনের নির্দেশনা থাকলে মালিকেরা ভাড়া বাড়িয়ে দেয়, এতে সাধারণ মানুষ আর্থিকভাবে দুর্ভোগে পড়ে। সংবাদমাধ্যম কর্মীর এমন কথায় কিছুটা হেসে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘ওকে, আপনার অবজারভেশন বিআরটিএকে বলে দেব যে, কোনো ভাড়াটারা বাড়ানো যাবে না। যেহেতু স্পেশাল সিনারিও…।’