নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীর পক্ষে মাঠে নেমেছেন জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। কেন্দ্রীয় নেতাদের সরব উপস্থিতিতে দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে পুরোদমে কাজ করছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা। অন্যদিকে দলীয় সব পদ হারিয়ে নিজেকে জনতার প্রার্থী ঘোষণা করে একাই লড়ছেন স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার। সরকারদলীয় প্রার্থীর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তিনি চালাচ্ছেন নির্বাচনী প্রচার।
জানা গেছে, আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে প্রায় প্রতিদিনই নারায়ণগঞ্জে আসছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। দিচ্ছেন বিভিন্ন নির্দেশনা। গঠন করছেন একের পর এক কমিটি। গত বুধবার রাতে শহরের চাষাড়া বাঁধন কমিউনিটি সেন্টারে নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সমন্বয়ক ও দলের সভাপতিম-লীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, সদস্য সচিব মির্জা আযম এমপিসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে যুবলীগের ২৯৭ সদস্যের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। এর আগে মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগ ২৯ সদস্যের পৃথক কমিটি করা হয়। এ ছাড়া স্বাচীপসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের পক্ষ থেকেও আলাদা নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত বুধবার বিকেলে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে সিদ্ধিরগঞ্জে বিশাল কর্মিসভা করেছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। আগামী ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে বন্দরে আরেকটি কর্মিসভায় কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার নির্বাচনী প্রচারে নেমে মেয়র আইভীও বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ একটি বৃহৎ দল। এখানে দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকতে পারে, কিন্তু নৌকার পক্ষে সবাই এক। তৃণমূল নেতাকর্মীরা নৌকার জন্য মাঠে কাজ করছেন। আমরা ভোটে বিশ^াসী, তাই ভোটারদের কাছে আমাদের নেতাকর্মীরা আছেন।’
এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার নগরীর সিদ্ধিরগঞ্জ ৮ নম্বর ওয়ার্ডে প্রচারকালে তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, ‘আমি মানুষের প্রয়োজনে দলের বাইরে এসে এখানে নির্বাচন করছি। দলের লোকজনও আমার সঙ্গে আছে, কারণ তারা জানে আমার শরীরে সরকারি দলের গুলি আছে। আমি জানি আমার শরীরের অবস্থা কেমন যায়। আমাকে বারবার পুলিশ পিটিয়েছে এটা তারা জানে। তাই আমার নেতাকর্মীরা আমাকে ছেড়ে যায়নি। নেতাকর্মীরা জানে কতবার আমি কারাগারে গিয়েছি কিন্তু আপস করিনি। ভয়ে মরে কাপুরুষ, লড়ে যায় বীর নীতিতে আজ পর্যন্ত অবিচল আছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি দলের বড় বড় নেতা-এমপি আমার বিরুদ্ধে অনেক বড় বড় কথা বলছেন। তারা ঢাকা থেকে এসে এসব কথা বলেন। কিন্তু নারায়ণগঞ্জের মানুষ আমাকে চেনে। আওয়ামী লীগের যিনি প্রধান তিনিই বলেছেন, তৈমূর আলম উইনেবল ক্যান্ডিডেট। তিনি তিনবার বলেছেন, তৈমূর জেতার মতো লোক। প্রধানমন্ত্রীর কথা মানুষ বিশ্বাস করবে, নাকি সরকারি দলের এমপি-মন্ত্রীদের কাহিনী বিশ্বাস করবে।’