জাহাঙ্গীরনগরে দর্শনার্থীরা ঢিল ছুড়ে দেখেন, অতিথি পাখি ওড়ে কিনা!

লেকের সংস্কার নেই, পাখিদের ঢিল ছোড়ায় এবার জমে ওঠেনি অতিথি পাখির জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি লেকে মাত্র দেড় হাজারের মতো পাখির দেখা মিলেছে বলে জানিয়েছে প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৬টি লেকের মধ্যে প্রতিবছর শীতে দেখা যেত অসংখ্য অতিথি পাখি। সবচেয়ে বেশি পাখির দেখা যেত পরিবহন চত্বর সংলগ্ন লেকে। এ ছাড়া বোটানিক্যাল গার্ডেন সংলগ্ন জয়পাড়া লেক, রেজিস্ট্রার বিল্ডিংয়ের পেছনের লেক, পুরাতন কলাভবন সংলগ্ন লেকেও প্রত্যেক বছর থাকত অতিথি পাখির আধিক্য।

তবে এবার অতিথি পাখিশূন্য অবস্থা হয়েছে ক্যাম্পাসের লেকগুলোতে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের তৃতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী জানান, দর্শনার্থীরা পাখি দেখতে আসেন পরিবার নিয়ে। অনেক প্রেমিক প্রেমিকারা আসেন। তারা সব সময়ই পাখিদের অত্যাচার করেন। এটি বন্ধ করতে না পারলে পাখিরা আর আসবে না।

নৃবিজ্ঞান বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী জানান, লেক এলাকাগুলোতে কোনো নিরাপত্তা প্রহরী থাকেন না। যারা পাখি দেখতে আসেন তারা ঢিল ছোড়ে দেখেন পাখিরা ওড়ে কিনা। এতে পাখিরা বিরক্ত হয়।

পাখিশূন্য ক্যাম্পাসের বিষয়ে প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কামরুল হাসান জানান, প্রতিবছর সবচেয়ে বেশি পাখির দেখা মিলতো বিশ্ববিদ্যালয়ের জয় পাড়া লেকে। কিন্তু প্রশাসনের গাফিলতির কারণে এ বছর লেকটি প্রায় সম্পূর্ণরূপে কচুরিপানাসহ অন্য জলজ উদ্ভিদে ভর্তি হয়ে আছে। প্রতিবছর আগস্ট মাসে লেকগুলো পরিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিস। এবার লেকের তেমন সংস্কার হয়নি। ফলে পাখি যতটুকু পরিষ্কার জায়গা পেয়েছে সেখানে বসেছে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সুইমিং পুল ও মনপুরা সংলগ্ন এলাকায় কোনো নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেই।

তিনি আরও জানান, এই এলাকাগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ভেতরে হওয়ায় সাধারণত এখানে কোনো নিরাপত্তারক্ষী রাখার প্রয়োজন হয় না, কিন্তু আমি এবার এখানে পাখিদের ঢিল ছোড়ার খবর পেয়েছি। সে কারণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যদি সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই এলাকাগুলোতে পাখিদের নিরাপত্তার স্বার্থে এক বা দুজন সিকিউরিটি নিরাপত্তারক্ষী রাখে সে ক্ষেত্রে পাখিরা নিরাপদ থাকবে। বিকেল ৫টার পর এই এলাকায় তেমন মানুষের আনাগোনা থাকে না।

ট্রান্সপোর্ট এলাকা সংলগ্ন লেকের বিষয়ে তিনি বলেন, এখানে সবচেয়ে বেশি দর্শনার্থীদের উৎপাত ছিল। তা ছাড়া ব্যাটারিচালিত রিকশা, দর্শনার্থীদের গাড়ির অবৈধ পার্কিং, উচ্চ শব্দে হর্ন বাজানো এগুলো তো আছেই। পরিবহন চত্বরের পেছনের জায়গাটা পাখিদের জন্য আড়াল হিসেবে থাকে। তারা নির্ভয়ে সেখানে থাকতে পছন্দ করে কিন্তু আমাদের শিক্ষার্থী এবং দর্শনার্থীরা আড্ডা দেওয়ার নামে পরিবহন চত্বরের পেছনে অবস্থান করায় পাখিরা ওই লেকেও এবার নেই।

শুধু এই মৌসুমে পরিবহন চত্বরের পেছনে যাওয়ার রাস্তা বন্ধ করার জন্য ইতিমধ্যে এস্টেট অফিসে চিঠিও দিয়েছেন বলে জানান অধ্যাপক কামরুল হাসান।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ বলেন, আমরা ইতিমধ্যে পরিবহন চত্বরের বিষয়ে ব্যবস্থা নিয়েছি। যত দ্রুত সম্ভব আরও কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাখিদের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পাখিদের নিরাপত্তার জন্য যা যা করা দরকার, আমরা করব।