হেইন্সকে প্রধান নির্বাচক করল উইন্ডিজ

সেরা সময় ফিরে পেতে সেরাদের একজনের স্মরণাপন্ন হলো উইন্ডিজ ক্রিকেট। উইন্ডিজের নতুন প্রধান নির্বাচক করা হয়েছে ক্যারিবীয় ক্রিকেটের স্বর্ণযুগের অন্যতম ডেসমন্ড হেইন্সকে। বার্বাডোজের এই ব্যাটিং কিংবদন্তি ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত থাকছেন এই পদে। বৃহস্পতিবার উইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডের এক সভায় হেইন্সকে দায়িত্ব দেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়। ১৯৯৪ সালে ক্রিকেট ছাড়ার পর অনেক দিন খেলাটি থেকে দূরে ছিলেন হেইন্স। পরে ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ দিয়ে আবার ফেরেন। ২০১৯ সালে উইন্ডিজ দলে কোচের পদে আবেদন করেছিলেন, কিন্তু ফিল সিমন্স তাকে টপকে দায়িত্ব পান। কোচের পদে না থাকলেও দল নির্বাচনে এবার আসল দায়িত্বটা পড়ছে হেইন্সের কাঁধেই। হেইন্স স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন তার সাবেক সতীর্থ রজার হার্পারের।

আশির দশকে উইন্ডিজের দাপুটে দিন এনে দেওয়াদের অন্যতম হেইন্স। আরেক গ্রেট গর্ডন গ্রিনিজের সঙ্গে গড়েছিলেন উইন্ডিজের সাফল্যের নিয়ামক ওপেনিং জুটি। ৬ হাজার ৪৮২ রানে টেস্ট ইতিহাসের সফলতম উদ্বোধনী জুটি তারাই। তাদের রেকর্ড ৩০ বছর পরও অটুট। ১৬ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে টেস্ট ও ওয়ানডে মিলিয়ে ১৬ হাজারের বেশি রান করেছেন হেইন্স। ১৯৭৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জোড়া ফিফটি দিয়ে টেস্ট অভিষেক ডানহাতি এ ব্যাটসম্যানের। ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত ১১৬ টেস্টের ক্যারিয়ারে ১৮ সেঞ্চুরি ও ৩৯ ফিফটিতে তার রান ৭ হাজার ৪৮৭, সর্বোচ্চ ১৮৪। আর ওয়ানডেতে ১৭ সেঞ্চুরি ও ৫৭ ফিফটিকে ২৩৮ ম্যাচে ৮ হাজার ৬৪৮, সর্বোচ্চ ১৫২*। ওয়ানডেতে তার ১৭ সেঞ্চুরি দীর্ঘদিন এই ফরম্যাটের সর্বোচ্চসংখ্যক শতক ছিল। দুই ফরম্যাটে তার গড়ও ছিল ঈর্ষণীয়, টেস্টে ৪২.২৯ ও ওয়ানডেতে ৪১.৩৭।

খেলোয়াড়ি জীবনে পারফর্ম করার দায়িত্ব ছিল নিজের ওপরে। নির্বাচক হিসেবে সাফল্যের নিয়ন্ত্রণ যে নিজের ওপর নেই, সেই চ্যালেঞ্জের কথা প্রথম দিন সংবাদ সম্মেলনে জানান হেইন্স, ‘আবারও উইন্ডিজ ক্রিকেটের সেবা করতে পারব এ জন্য উইন্ডিজ ক্রিকেটের প্রেসিডেন্ট রিকি স্কারিটকে ধন্যবাদ। নির্বাচকের কাজে প্রশংসা মেলে কম, তবে ক্রিকেট সিস্টেমে এটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব এবং আমি এই দায়িত্ব পেয়ে সম্মানিত। আমি সব সময়ই বলে এসেছি, যেকোনোভাবে সম্ভব হলেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটকে সহায়তা করতে চাই এবং এই দায়িত্বকে দেখছি সেই সুযোগ হিসেবে। স্বচ্ছ ও পেশাদারিভাবে দায়িত্ব পালন করার আশা রাখি।’

হেইন্সের নিয়োগে বড় ভূমিকা রেখেছেন বোর্ডের ডিরেক্টর অব ক্রিকেট ও সাবেক অধিনায়ক জিমি অ্যাডামস।