নিজেদের ইতিহাসের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় ফিলিপে কুতিনহোকে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের মধ্য সারির ক্লাব অ্যাস্টন ভিলাতে ধারে দিল বার্সেলোনা। বেতন-ভাতা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় দলে নতুন যোগ দেওয়া ফেরান তোরেসকে লা লিগায় নিবন্ধন করতে পারছিল না বার্সেলোনা। এই ব্রাজিলিয়ান প্লে মেকারকে ভিলাতে ধারে পাঠানোয় বেতনের খরচ কিছুটা কমে যাবে বার্সেলোনার। আর তাতে তোরেসকে নিবন্ধন করার পথে অনেকটাই এগিয়ে গেছে কাতালানরা।
কুতিনহোকে এর আগেও ধারে পাঠিয়েছে বার্সেলোনা। সে স্মৃতিটা মোটেও সুখকর নয়। বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে ২০১৯-২০ চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ার্টার ফাইনালে নিজেদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় দুঃস্বপ্ন দেখেছিল বার্সেলোনা। হেরেছিল ৮-২ গোলে। বায়ার্নের শেষ দুটি গোল করেছিলেন কুতিনহো। করেছিলেন ষষ্ঠ গোলটি। তবে অ্যাস্টন ভিলার সঙ্গে ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় দেখা হচ্ছে না বার্সার। ভিলাতে সাবেক সতীর্থ স্টিভেন জেরার্ডকে কোচ হিসেবে পাচ্ছেন ২৯ বছরের কুতিনহো।
প্রতিভাবান এই প্লে-মেকারকে অনেকেই দলে নিয়ে পরে ধারে অন্য ক্লাবে খেলতে দিয়েছে। ব্রাজিলের ভাস্কো দা গামা অনূর্ধ্ব-১৭ দল থেকে খুব আগ্রহ নিয়ে ইন্তার মিলান কিনে নেয় ২০০৮ সালে। এক দিন পরই সে দলেই আবার ধারে খেলতে দেয়। দু’বছর পর ইন্তার আবার লা লিগার এস্পানিওলে ধারে পাঠায় কুতিনহোকে। ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে লিভারপুল ১৩ মিলিয়ন পাউন্ডে কিনে নেয় তাকে। ৫ বছরে ১৫২ ম্যাচে ৪১ গোল করা কুতিনহোকে মনে ধরে বার্সেলোনার। ২০১৮-র ৮ জানুয়ারি মৌসুমের মধ্যবর্তী দলবদলে সাড়ে ১৩ কোটি পাউন্ডে ব্রাজিলিয়ানকে ন্যু ক্যাম্পে আনে বার্সা। কিন্তু লিওনেল মেসির পাশে বিবর্ণ হয়ে পড়েন কুতিনহো। ২০১৯-২০ মৌসুম ধারে বায়ার্নে খেলতে দেয় বার্সা। চলতি মৌসুমে ১৬ ম্যাচসহ বার্সার হয়ে ১০৬ ম্যাচ খেলেছেন ২৬ গোল করা কুতিনহো বোঝা হয়ে ওঠায় কয়েক বছর ধরেই তাকে বিক্রির চেষ্টা চালাচ্ছিল। আগামী জুনে যদি অ্যাস্টন ভিলা তাকে কিনে নিতে চায়, দামে মিলে গেলে তাই আর আপত্তি থাকার কথা নয় বার্সার। তবে কুতিনহোকে ধারে পাঠালেও বেতনের খরচের পুরোটাই বাঁচাতে পারছে না কাতালানরা। করসহ ১ কোটি ৬০ লাখ ইউরো বেতন দেয় বার্সেলোনা ব্রাজিলিয়ানকে। ধারে নিলেও ভিলা নাকি পুরো বেতন দেবে না, কিছু বেতন বার্সেলোনাকেও দিতে হবে।
বার্সার ‘বোঝা’ ম্যাজিশিয়ানকে পেলেন জেরার্ড
যাই হোক সাবেক সতীর্থকে শিষ্য হিসেবে পেয়ে দারুণ খুশি জেরার্ড, ‘তার (কুতিনহোর) উইকিতে চোখ রাখলেই দেখা যায়, সে যেখানেই গেছে সেখানেই শিরোপা জিতেছে। ব্রাজিলের হয়ে খেলেছে ৬৩টি ম্যাচ। বার্সেলোনার হয়ে খেলেছে এবং লিভারপুলে তো সে অবিশ্বাস্য ছিল। আমার মনে হয় না, কেউ স্পেশাল খেলোয়াড় না হলে ‘দ্য ম্যাজিশিয়ান’ খেতাব পায়।’