ধীরগতির ইন্টারনেটে ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আবাসিক হলে দুর্বল গতির ইন্টারনেট নিয়ে শিক্ষার্থীরা আগে থেকেই অভিযোগ করে আসছেন। গত বুধবার থেকে একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে ইন্টারনেটসেবা। এতে ই-লাইব্রেরিসহ ইন্টারনেটভিত্তিক কার্যক্রম নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা।

একই দশা রাজধানীর বুকে থাকা শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি)। বিল দিয়ে একটি প্রাইভেট ব্রডব্যান্ড অপারেটরের কাছ থেকে আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা সেবা নিলেও মাসের বেশিরভাগ সময় ধীরগতি থাকে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদার বখস, শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শহীদ শামসুজ্জোহাসহ বেশ কয়েকটি হলে বন্ধ রয়েছে ইন্টারনেটসেবা। মাদার বখস হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মাসুদ রানা বলেন, ‘আমি হলে ওঠার পর থেকেই ধীরগতির ইন্টারনেট দেখছি। বেশ কয়েকবার অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাইনি। পরে নিজেরা রাউটার কিনে ইন্টারনেট ব্যবহার করছি। শুক্রবার থেকে ওয়াই-ফাই একদম বন্ধ হয়ে গেছে। মোবাইল অপারেটর থেকে ইন্টারনেট সেবা নিতে গিয়ে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে।’

শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী রাসেল ইসলাম বলেন, ‘পড়াশোনা থেকে দৈনন্দিন কার্যাবলির প্রায় সবই এখন অনলাইননির্ভর। হুট করে ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খুবই ক্ষতি হচ্ছে। হলে ওয়াই-ফাই থাকা সত্ত্বেও ডাটা কিনতে হচ্ছে।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় আইসিটি সেন্টারের পরিচালক মো. বাবুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের বেশ কয়েকটি হলে ফাইবার কনস্ট্রাকশনের কাজের জন্য আপাতত ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রয়েছে। আশা করছি, দ্রুত শিক্ষার্থীরা আবার ওয়াই-ফাই ব্যবহার করতে পারবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাউটারের তুলনায় ব্যবহারকারী বেশি হওয়ায় গতি কম যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাইলে রাউটার বাড়িয়ে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি দূর করতে পারে। তবে আমরা প্রতিটি হলে একটি ব্রাউজিং জোনের চিন্তা করছি। সেখানে বসে শিক্ষার্থীরা ভালো গতি পাবেন।’

এদিকে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা বিল দিয়েও ঠিকমতো ইন্টারনেট সেবা পাচ্ছেন না। একাডেমিক ভবনসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ইন্টারনেটের ব্যবস্থা নেই। বিশ্ববিদ্যালটির একমাত্র সাইবার ক্যাফে বন্ধ প্রায় দুই বছর। প্রতিটি হলের নির্দিষ্ট জায়গায় ওয়াই-ফাই ব্যবস্থা করা হলেও তার বেশিরভাগই এখন অচল।

এ বিষয়ে স্পিডটেকের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক রাজিব বলেন, ‘একটি কক্ষের লাইন একাধিক শিক্ষার্থী ব্যবহার করছেন বলে গতি কম পান। ভালো মোবাইলফোন ও রাউটার না থাকলেও এমন হতে পারে। আমরা চুক্তি অনুযায়ী ইন্টারনেট দিচ্ছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রপরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘আপাতত সমাধান আমাদের হাতে নেই। তবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইন্টারনেট সেবা দেওয়া যায় কি না সে বিষয়ে আমরা আলাপ-আলোচনা করব।’