ডিজিটাল যুগে খোদ রাজধানীর প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থান করেও চাহিদা মতো ইন্টারনেট সেবা পাচ্ছে না শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা।
বিল দিয়ে একটি প্রাইভেট ব্রডব্যান্ড অপারেটরের কাছ থেকে সেবা নিলেও মাসের বেশি ভাগ সময়ই নেটের গতি অনেক ধীর থাকে বলে অভিযোগ। শিক্ষার্থীদের এমন অবস্থায় নজর নেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের।
কিছু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক হলগুলোতে ফ্রি ওয়াই-ফাইয়ের ব্যবস্থা থাকলেও এখানে তার উল্টো চিত্র, টাকা দিয়ে নেওয়া ইন্টারনেট সার্ভিসও খুব নিম্নমানের।
বিশ্ববিদ্যালয়টির একমাত্র সাইবার ক্যাফে বন্ধ হয়ে আছে ২ বছর ধরে। একাডেমিক ভবনসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নেই ইন্টারনেটের কোনো ব্যবস্থা। প্রতিটা হলের হলের কমন প্লেসে ওয়াই-ফাইয়ের ব্যবস্থা থাকলেও বেশির ভাগই এখন অচল।
বিশ্ববিদ্যালয়টির ৫টি আবাসিক হলের প্রায় ৪ হাজার শিক্ষার্থী অবস্থান করে। যেখানে প্রত্যেক হলের প্রতিটি রুমে আলাদা ওয়াই-ফাই এর লাইন রয়েছে, যার বেশির ভাগই একটি প্রাইভেট অপারেটরের। লাইনপ্রতি মাসিক ৫০০/৪০০ টাকার সার্ভিস চার্জ দিতে হয় শিক্ষার্থীদের।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৮৭ একরের এই বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ২টি প্রাইভেট ব্রডব্যান্ডের লাইন রয়েছে। একটি ¯িপডটেক অপরটি নেটপার্ক। কিন্তু অজানা কারণে নেটপার্কের অপারেটররা ক্যাম্পাসটিকে কোণঠাসা। শুধুমাত্র কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের ১৬টা কক্ষে তাদের সেবা চলমান, বাকি কক্ষগুলোতে এবং অন্য ৪টি হলের সব কটিতে লাইন ¯িপ্রটটেক অপারেটরের।
আরও জানা যায়, ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনের এক প্রভাবশালী নেতা নেটপার্ক অপারেটরকে ক্যাম্পাসে ইন্টারনেট সার্ভিস দিতে নিষেধ করেছেন। ফলে শিক্ষার্থীরা চাইলেও কেউ এই অপারেটরের লাইন নিতে পারে না।
এদিকে গত ৩ দিন আগে নেটের গতি ধীর হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা হলের ছাদে নেট সার্ভিসিং এর কাজে ব্যবহিত কয়েকটি বক্স ভেঙে ফেলে কিছু শিক্ষার্থী এবং পাশের দেয়ালে লিখে রাখে ‘নেট এর স্পিড ঠিক না হলে আবার ভাঙবো’।
শিক্ষার্থী ইমরান হাসান মিরাজ দেশ রূপান্তরকে বলেন, আশপাশে অনেক অপারেটর আছে তারা অনেক ভালো সার্ভিস দিচ্ছে আর এরা পুরাই ফালতু, যেখানে ফেসবুক ইউটিউব ডেডিকেটেড স্পিডে চলে সেটাও ঠিকমতো চালানো যায় না ব্রাউজিং তো বাদই দিলাম। অন্য হলের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেও এমন অভিযোগ পাওয়া যায়। একক অপারেটর হওয়ায় এমন বাজে সার্ভিস দিচ্ছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
এসব অভিযোগের বিষয়ে স্পিডটেক অপারেটরের সিনিয়র ম্যানেজার রাজিব শিক্ষার্থীদের উপর দোষ চাপিয়ে বলেন, একটি রুমে একাধিক শিক্ষার্থী একই লাইন ব্যবহার করায় তারা স্পিড কম পায়। তা ছাড়া তাদের ব্যবহার করা মোবাইল ও রাউটারের ধরনের উপরেও স্পিড কম হতে পারে।
শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়টির ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক প্রফেসর ফরহাদ হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইন্টারনেট সার্ভিস দেওয়ার বিষয়ে আমি আলাপ করবো।